বন্দরে যুবককে কুপিয়ে এক হাত বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। গত বুধবার রাতে মদনপুরের আন্দিরপার এলাকায় শাইরা গার্ডেন রিসোর্টের প্রবেশ পথের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। হত্যার ঘটনায় গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে হত্যাকারীদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে স্থানীয় মেম্বারের স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেফতার করে। নিহত যুবকের নাম মো. জুয়েল মিয়া (২৩)। তিনি আন্দিরপার গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। গ্রেফতারকৃতরা হলো—শাহনাজ (৩৮) ও ইয়াসীন (১৭)।
পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্র জানায়, বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউপির আন্দিরপার গ্রামের মো. তোতা মিয়ার দুই ছেলে হালিম ও সেলিমের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জের ধরে তিন দিন আগে একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে জুয়েল ও সোহেল দলবল নিয়ে হালিমকে মারধর করে। গত বুধবার রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে শাইরা গার্ডেন রিসোর্টের প্রবেশ পথের পাকা রাস্তায় দাঁড়ায় জুয়েল। কিছুক্ষনের মধ্যেই তোতা মিয়ার দুই ছেলে হালিম ও সেলিমসহ তার সহযোগী ৮-১০ জন গরু জবাই করার ছুরি, চাপাতি, রামদা নিয়ে জুয়েলকে চারদিক দিয়ে ঘিরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় দেহ থেকে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তার মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় প্রতিপক্ষরা। এ সময় আশপাশের লোকজন এসে দেখে জুয়েল মাটিতে পড়ে আছে। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের ডাক্তার জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ হত্যার খবর পেয়ে নিহত জুয়েলের লোকেরা হত্যাকারীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সংবাদ পেয়ে ধামগড় পুলিশ দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ধাওয়া-পালটাধাওয়া নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় শাহজালাল মেম্বারের ছেলে ইয়াসীন ও স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে গ্রেফতার করে।
বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে।
