প্রবীণদের দায়িত্ব কার?

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২১, ২২:০২

এম এ কাদের

বর্তমান বাংলাদেশে প্রবীণের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এর প্রায় ৫০ লাখ অসুস্থ, অসহায়, অবহেলিত, নিঃসঙ্গ ও সেবাহীন জীবন যাপন করছেন—যাঁদের কারোরই করোনার ধাক্কা সামলানোর মতো শারীরিক মানসিক বা অর্থনৈতিক সামর্থ্য নেই। এ সময় পরিচর্যাহীন বার্ধক্যই দেশের একটি প্রধান সমস্যা। অসহায় প্রবীণদের কল্যাণে এখনই আমাদের উদ্যোগী হওয়া জরুরি।

বার্ধক্য হচ্ছে মানুষের অবধারিত সমস্যা। আজকের নবীনই আগামী দিনের প্রবীণ। তাই শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রবীণদের দেখভাল করতে হবে। আর নিজেদের স্বস্তিময় বার্ধক্যের প্রস্তুতি নিতে হবে। দয়া-দাক্ষিণ্য বা করুণার দৃষ্টিতে নয়, মানবাধিকারের ভিত্তিতে এবং প্রাপ্য মর্যাদার যুক্তিতে প্রবীণদের চাওয়া-পাওয়া সমাধান করা প্রয়োজন। এজন্য গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রবীণদের অবহেলা, অযত্ন, নির্যাতনের ঘটনা এবং সবার করণীয় বিষয়গুলো সব শিক্ষা পাঠ্যসূচিতে এবং গণমাধ্যম কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

যে প্রবীণ যৌবনে তাঁর মেধা, মনন, দক্ষতা দিয়ে সমাজের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, জীবনের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেছেন, মানব কল্যাণে অবদান রেখেছেন, বৃদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই মানুষটি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বেন—এটা মানা যায় না। শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ ও সুন্দর জীবন গড়ার জন্য  বাবা-মা ও সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে, অনুরূপভাবে প্রবীণদের জন্য সন্তান, সমাজ ও সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।

প্রবীণদের অসহায়ত্বকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টিকে জাতীয় সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে তাঁদের জন্য ‘আনন্দ আশ্রয়’ গড়ে তুলতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সমাজের দানশ­ীল ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি। এখন সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে।

ঝিনাইদহ