শিক্ষকের প্রতি অধ্যক্ষের পরামর্শ

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২১, ২০:৩২

মো. রহমত উল্লাহ্

শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, শৈল্পিক শুভেচ্ছা।

আপনারা জানেন, বর্তমান শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত তথ্যপূর্ণ, প্রতিবাদী ও আবেগপ্রবণ। তাই শুধু শাসনের সুরে কথা বললে তারা আপনার কথা মেনে নিবে না, মনে নিবে না। আদর করে, সোহাগ করে, আপন করে, আপন হয়ে, পিতামাতার সমতুল্য অবস্থানে গিয়ে শাসন করার অধিকার অর্জন করে সামান্য পরামর্শ দিলেই তা শিরোধার্য বলে মান্য করবে, পুণ্য কর্ম বলে হূদয়ে ধারণ করবে। চিরদিন মনে রাখবে সেই পরামর্শ, সেই আদেশ, উপদেশ। এইরূপ স্থায়ী শিক্ষাই হলো প্রকৃত শিক্ষা। এখানেই শিক্ষকের সফলতা।

আপনার প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাথে এমন সুসম্পর্ক রচনা করুন যেন সে আপনাকে ভয় পাওয়ার চেয়ে শ্রদ্ধা বেশি করে। আপনাকে তার অত্যন্ত আপনজন মনে করে। তার সকল সমস্যার কথা বলার নির্ভরযোগ্য পাত্র মনে করে। অন্য অনেকের চেয়ে আপনাকে অধিক জ্ঞানী, গুণী ও দায়িত্বশীল মনে করে। বিশেষ করে লেখাপড়ার বিষয়ে আপনাকেই যেন সবচেয়ে উত্তম শিক্ষক ভাবতে পারে। চর্চায়, চলায়, বলায়, চিন্তায়, চেতনায় আপনাকেও হয়ে উঠতে হবে তেমন।

তদুপরি শিক্ষার্থীর পিতামাতার সাথে এমন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে যেন তারাও আপনাকে অভিভাবক মনে করেন এবং সন্তানের সামনে তা প্রকাশ করেন। পরিবারের সকল ভালোমন্দ যেন আপনার সাথে শেয়ার করেন। তাদের সুখ-দুঃখের সাথী মনে করেন। আপনাকে খুশি রাখার জন্য যেন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকেন। তবেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের দায়িত্ব-কর্তব্য আপনি হাসি মুখে বলার পরিবেশ পাবেন এবং তা অধিক কার্যকর হবে। আপনি যাতে মন খারাপ না করেন, আপনি যাতে তাদের উপর অসন্তুষ্ট না হন সেজন্য তারা আন্তরিকভাবে সচেষ্ট থাকবে। নিজেদের মঙ্গলার্থে আপনাকে খুশি রাখার জন্য শিক্ষার্থী লেখাপড়া করবে, অভিভাবক সঠিক দায়িত্ব পালন করবে।

শিক্ষার্থী যে পরিবার বা অবস্থান থেকেই আসুক না কেন সে উত্তম। শিক্ষার্থীর মাঝেই শিক্ষকের পরিচয় নিহিত। যার শিক্ষার্থী আছে তিনিই শিক্ষক। যার প্রতি আকৃষ্ট শিক্ষার্থী নেই তিনি শিক্ষক নন। শিক্ষার্থীকে আকৃষ্ট রাখা শিক্ষকের সফলতার চাবি। শিক্ষাদান অত্যন্ত পুণ্য কর্ম। শিক্ষার্থী হচ্ছে শিক্ষকের সেই পুণ্য লাভের মাধ্যম। এই বিবেচনায় শিক্ষকের নিকট শিক্ষার্থীও শ্রদ্ধার পাত্র। তাই শিক্ষার্থীকে কোনোভাবেই শারীরিক বা মানসিক শাস্তি দেওয়া চলে না।

শুধু ভয় দেখিয়ে, ধমক দিয়ে, রাগারাগি করে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে লেখাপড়া করানোর চেয়ে সুসম্পর্ক দিয়ে সুশিক্ষা দেওয়া তুলনামূলক সহজ ও অধিক কার্যকর। শিক্ষার্থী রুটির গুলা তুল্য। রুটির গুলায় যেমন হাত বুলিয়ে বুলিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া হয় তেমনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তৈরি করতে হয় সযত্নে। এখানে ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার তথা নিষ্ঠুরতা মোটেও চলে না। তেমন করতে গেলেই হিতে বিপরীত হয়।   

শিক্ষকের সীমাহীন ত্যাগে, ঐকান্তিক চেষ্টায় ও নির্মল আন্তরিকতায় একজন শিক্ষার্থী যতটুকু মানুষ হয়ে উঠে ততটুকু পুণ্য পেতে থাকেন শিক্ষক। দুর্বল শিক্ষার্থী মানুষ করায় অধিক পুণ্য। মানব শিশুকে মানুষে পরিণত করা অত্যন্ত কঠিন কাজ! নিয়োগপত্র পেলেই শিক্ষক হওয়া যায় না, শিক্ষক হয়ে উঠতে হয়। শিক্ষার্থী ভেদে শিক্ষকের শিক্ষকতা ভিন্ন। অর্থাত্ লালনপালন ও পরিচর্যার ধরন আলাদা। এ যেন একই বাগানে একাধিক রকম গাছের যত্ন। প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাথে শিক্ষকের সম্পর্ক সম্পূর্ণ পৃথক। এই সম্পর্কের উচ্চতার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীর মাঝে গ্রথিত হয় শিক্ষকের গুণাগুণ, শিক্ষার্থী

আয়ত্ত করে শিক্ষকের দেওয়া শিক্ষা। সফল হন শিক্ষক।