দিনাজপুরে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২১, ২১:৫০

মতিউর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

দিনাজপুরে উদ্বেগজনক অবস্থায় রূপ নিয়েছে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি। করোনার লক্ষণ নিয়ে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫২ জন রোগী ভর্তি থাকলেও এদের মধ্যে ২২ জন করোনা পজিটিভ রিপোর্ট নিয়ে ভর্তি রয়েছে। বাকি ৩০ জনের জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য উপসর্গ রয়েছে। দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তিকৃত এসব রোগীকে আলাদা আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে।

গত শুক্রবার হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিত্সক ডা. ইরার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, দুটি কোভিড ওয়ার্ডে বর্তমানে ৫২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে কেউ পিসিআর ল্যাবে পজিটিভ, কেউ সিটি স্ক্যান অনুযায়ী পজিটিভ আবার কেউ সাসপেক্টিভ (সন্দেহজনক) রোগী। তিনি বলেন, এদের মধ্যে ২২ জন পিসিআরে পজিটিভ এবং বাকি ৩০ জনের করোনা ভাইরাসের সব লক্ষণই আছে। তিনি বলেন, এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে কোভিড ওয়ার্ডে ৫১টি বেড রয়েছে। এই ৫১টি বেডের মধ্যে ফ্লু কর্নারে ২৪টি বেড এবং আইসিসিইউতে ২৭টি বেড। কিন্তু আইসিসিইউতে বর্তমানে রোগী রয়েছে ৩০ জন।

এ ব্যাপারে কথা বলতে এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আবু রেজা কল্লোলের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, উদ্বেগজনক হারে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে আরো ৫০টি বেড বাড়িয়ে ১০০টি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, আগে ছিল পজিটিভ রোগী বেশি এবং সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ছিল কম। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি হয়েছে উলটো। এখন পজিটিভ রোগীর চেয়ে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যাই বেড়েছে। তিনি বলেন, মার্চ মাসের পর থেকে করোনা ভাইরাসের সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট শুরু হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ভাইরাসটি অন্য ভাইরাসের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি সংক্রমিত হয় এবং এর লক্ষণ দেরিতে পরিলক্ষিত হয়। তাছাড়া এই ভ্যারিয়েন্টের ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে তার অক্সিজেনও বেশি প্রয়োজন হয়। এই ভাইরাসে মৃত্যুর হারও বেশি এবং এতে শিশুরাও সংক্রমিত হয়। তিনি আবারও বলেন, করোনার সব লক্ষণ থাকার পরও যেখানে পজিটিভ কেসের চেয়ে নেগেটিভ কেসই বেশি, তাহলে বুঝে নিতে হবে এটি অন্য ভ্যারিয়েন্টের ভাইরাস। এই ভ্যারিয়েন্টের ভাইরাস খুবই ভয়ানক। ভয়ানক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং এ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান তিনি।