করোনার প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার রেমিট্যান্স ২৫ ভাগ কমতে পারে

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২১, ২২:০১

এডিবির প্রতিবেদন

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি বাড়লেও ফিরে আসবে তারচেয়ে বেশি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনার প্রভাবে রেমিট্যান্স আহরণকারী প্রায় সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তুলনামূলক দক্ষিণ এশিয়ায় বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির হিসাবে এশিয়ার দেশগুলোতে গড়ে ২০ ভাগ রেমিট্যন্স কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি কমতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার। এই অঞ্চলে সর্বোচ্চ ২৫ ভাগ রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার আশঙ্কা করেছে সংস্থাটি। এর ফলে বিভিন্ন দেশের সামগ্রিক মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিতে বিরূপ প্রভার পড়তে পারে। কারণ এসব দেশের অনেক পরিবারে আয়ের বড় উত্স হলো এই রেমিট্যান্স। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘লেবার মাইগ্রেশন ইন এশিয়া :ইমপ্যাক্ট অব দ্য কোভিড-১৯ ক্রাইসিস অ্যান্ড দ্য পোস্ট-প্যানডেমিক ফিউচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্সের ওপর। করোনার প্রকোপ কমাতে দেশে দেশে লকডাউন এবং নতুন ভিসা দেওয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ফলে কমে গেছে জনশক্তি রপ্তানি। করোনার প্রভাবে গেল বছর, অর্থাত্ ২০২০ সালে এশিয়ার দেশগুলোতে গড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ রেমিট্যন্স প্রবাহ কমেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, সৌদি আরবে ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে শ্রমিকদের জন্য ৬ লাখ ৩৩ হাজার ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল। ২০২০ সালের প্রথমার্ধে এটি ৩৩ ভাগ কমতে দেখা যায়। শেষ ছয় মাসে দেশটিতে নতুন ভিসা ইস্যু কমেছে ৯১ শতাংশ পর্যন্ত। এ সময় মাত্র ৫০ হাজার শ্রমিক ভিসা পেয়েছেন দেশটিতে। দুবাইতে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একেবারেই বন্ধ ছিল নতুন শ্রমিক গমন। গত অক্টোবরে দেশটি ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া শুরু করে। ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে সিঙ্গাপুরে শ্রমিক গমন কমেছে ৫ শতাংশ। এভাবে সারা বিশ্বেই কমেছে জনশক্তি রপ্তানি। বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি করোনার প্রকোপ শুরুর আগে থেকেই কমছিল। বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ ৭২ হাজার প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার প্রকোপ শুরুর পর নভেম্বর পর্যন্ত নেপালে ফিরে গেছে ১ লাখ ৬০ হাজার নেপালি। জনশক্তি রপ্তানিকারক বড় দেশ ফিলিপাইনে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ফেরত গিয়েছেন দেশটিন ১ লাখ ৪৭ হাজার প্রবাসী শ্রমিক। এমনি করে প্রায় সব দেশেই প্রবাসী শ্রমিকেরা দেশে ফিরে গেছেন।

করোনার প্রকোপ শুরুর আগের বছর, অর্থাত্ ২০১৯ সালে প্রতিবেশী দেশগুলোর জনশক্তি রপ্তানি বাড়লেও বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ কমেছিল। এর পরেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে প্রবাসে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির পরিমাণ নিট ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে যেতে পারে। অর্থাত্, যত শ্রমিক প্রবাসে যাবেন, তার চেয়ে বেশি দেশে ফিরে আসবেন। তবে রেমিট্যান্স বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।