রানুর পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়েছিলেন র্যাব সদস্যরা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২১, ০০:১৮

তামজিদের কাছ থেকে রানুর পাওনা টাকা আদায়ে গেলে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় পুলিশের হাতে চার র্যাব সদস্য গ্রেফতার হন। তাদের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া রানু বেগম তামজিদের কাছ থেকে তার পাওনা টাকা পেতে র্যাব সদস্যদের সহায়তা চেয়েছিল। র্যাব সদস্যরা রানু বেগমকে সহায়তা করতে গেলে তামজিদের বোন রাইয়ানা বেগম তাদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করেন। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার চার র্যাব সদস্য জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই সুব্রত দেবনাথ বলেন, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য বলে রানু বেগম জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে। তিনি র্যাব সদস্যদের সহযোগী। পরস্পর যোগসাজশে এরা তামজিদ হোসেনকে অর্থের জন্য অপহরণ করেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

গ্রেফতারকৃতরা এর আগে কাউকে অর্থের জন্য অপহরণ করেছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে রিমান্ডে রানু বেগমকে এসব তথ্যের পাশাপাশি র্যাব সদস্যদের সঙ্গে তার কীভাবে পরিচয়, তারা এক সঙ্গে এর আগেও কাউকে অপহরণ করেছিল কি না, এমন আরো অনেক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এদিকে পুলিশ ও আদালতসূত্র জানিয়েছে, অপহূত তামজিদ হোসেন গতকাল শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি কীভাবে অপহূত হয়েছিলেন জবানবন্দিতে তার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে তামজিদ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণা করে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে মগবাজারের মীরবাগ এলাকার ১/২ নম্বর বাড়ির মালিক হাসানুজ্জামান টিপু বলেন, ‘তার বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে বাবা, বোন ও স্ত্রীকে নিয়ে ২০১৯ সাল থেকে মাসিক ১৯ হাজার টাকায় ভাড়া ওঠেন তামজিদ। এরপর তিন মাসের ভাড়া পরিশোধ করেছেন তামজিদ। এরপর আর ভাড়া দেয়নি। তার কাছে ভাড়া বাবদ ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পাই আমি।’

বাড়ির মালিক হাসানুজ্জামান বলেন, ‘দিচ্ছি দিবো বলে তিনি আমাকে আশ্বাস দিয়ে এলেও ভাড়া পরিশোধ করেনি। আবার বাসাও ছাড়েনি তারা। তামজিদকে অপহরণ করার কথা শুনেছি। তবে দুই দিন আগে থেকে পরিবারের কেউই বাসায় নেই।’

তিনি আরো বলেন, তামজিদের কাছে অনেক মানুষ টাকা পাবে। জামিল হোসেন নামে একজন তাকে জানিয়েছিলেন, ফ্ল্যাট বিক্রির করার কথা বলে তামজিদ তার (জামিল) কাছ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা নিয়েছেন।

এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদে রানু পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি তামজিদ হোসেনের কাছে টাকা পেতেন। সেই টাকা ফিরে পেতে তিনি র্যাব সদস্যদের সহযোগিতা নেন। র্যাবের যে সব সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন তাদের মধ্যে একজন তার আত্মীয়। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার তামজিদ হোসেনকে মগবাজারের বাসা থেকে উত্তরা যাওয়ার পথে অপহরণ করে ২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে র্যাবের চার সদস্য ও রানু বেগমকে গ্রেফতার করা হয়।