সাদি মহম্মদ
মিতাও চলে গেল! আমি এই অতিমারির কারণে বেরুতে পারি না। কেউ আমাকে ঘর থেকে বের হতে দেয় না। মাত্র কয়েকদিন আগে মিতা ফোন করে বললো ও আসবে। আড্ডা দিতে। আমি না করতেই বললো, সময় পাবো না পরে। সেই সময় সত্যিই আর এলো না। ও আমার এত আদরের একটা বোন! কী বলবো। একসঙ্গে বোম্বেতে একটা প্রোগ্রাম করার স্মৃতি মনে পড়ছে এখন। প্রোগ্রাম শেষে ডিনার করে কেউ কেউ বললো আমি ক্লান্ত। শুয়ে পড়বো। মিতা বললো। সাদি ভাই আছে। তার কথা হলো প্রাণশক্তি। সব ঘুম উধাও হয়ে যাবে। এই বলে আমরা সবাই এক ঘরে। একে একে নানা গল্প। আমার গল্পে হিউমার থাকে বেশি। মিতা সে গল্প শুনে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি। এরপর মাঝে মাঝে যখনই মন খারাপ হতো মিতা ফোন দিতে বলতো, সাদি ভাই গান নিয়ে বসি চলো। আসলে গান তো তোলাই হতো। কিন্তু আমাদের গানের প্র্যাকটিস শেষে শুরু হতো দু’জনের গল্প। মিতার মতো প্রাণখোলা আড্ডাবাজ কম আছে। সত্যি বলতে আমি নিজেও ভীষণ আনন্দ পেতাম। চারপাশে এত এত মন খারাপের গল্প! এর ভেতরে এগুলো যে কত জরুরি। যুবরাজ যেদিন মারা গেল। সেদিন রাতেই মিতা ফোন। সাদী ভাই তুমি কই? বাসায় আসো। তুমি একটু কথা বললে, একসঙ্গে একটু গান ধরলে মনটা হয়তো ঠিক হবে! মিতার সঙ্গে যারা যারা আড্ডা দিয়েছে, ওরা ভক্ত হয়ে গেছে। যেকোনো উসিলায় ওরা মিতার বাসায় যেত। আড্ডা উপভোগ করতে। সবাই তো গল্প করতে জানে না। সিনিয়রিটির আড়ষ্টতা নিয়ে বসে থাকে! মিতা ছিল অন্যরকম। প্রাণখোলা। কোনো অহম নেই মনে। এ রকম মানুষটা ভুলে যাওয়া কঠিন। জানি না ক’দিন বাঁচবো। যতদিন আছি, মিতার ফোন কলটা খুব মিস করবো! ফোন করে ও বলবে, সাদি ভাই, তোমার সঙ্গে হারমোনিয়ামটা নিয়ে বসলেই মন ভালো হয়ে যাবে আমার!
লেখক : দেশবরেণ্য রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী
