হূদয়টা ছিল সিংহের মতো

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২১, ২১:০১

ফারজানা মিথিলা

করোনা আমাদের দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিল। নয়তো মিতা আপাই তো আমাদের আড্ডার মধ্যমণি ছিল সবসময়। কী আদরে ডাক দিতো, কথা বলতো। করোনার সময় বাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিলাম। কারণ মিতা আপার শরীর এমনিতেই নাজুক। তবুও করোনার সেকেন্ড ওয়েভের সময় একবার যখন মিতাপা খুব করে বললো যেতে, তখন গেলাম। কিন্তু মিতা আপা বেডরুমে বসতেন। আমরা দরজা খোলা রেখে সোফায় বসতাম। জোরে কথা বলে আড্ডা চলতো। বের হওয়ার সময় কী মায়া দিয়ে বলতেন, একটু আমার কাছে আসবি না?

মিতা আপার হূদয়টা সিংহের মতো। এই কথাটা বলতেই চাই আমি। এ সময়ে আমরা পরস্পরের প্রশংসা, অনুপ্রেরণা দিতে খুব কৃপণতা করি। মিতা আপা ছিলেন একেবারেই উল্টো। কারো একটু ভালো গান শুনলে তাকে খুব উত্সাহ দিতো। শুধু তাকেই নয়। সবাইকে বলতো ওর গান শুনিস। এমন উদারমনা শিল্পী এদেশে দ্বিতীয়টা পাইনি আমি। নির্মোহ একজন মানুষ ছিলেন। খুব কষ্ট পেয়েছি যখন স্বাধীণতার ৫০ বছর আয়োজনের অনুষ্ঠানে মিতা আপাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি পারফর্ম করতেন কী করতে না, সেটি পরের বিষয়, কিন্তু তাকে আমন্ত্রণ জানানোটা উচিত ছিল। এদেশে তো মিতা হক একজনই! এটা ইভেন্টে যার দায়িত্ব ছিল তার দায় আমি বলবো। মিতা আপা বেঁচে থাকতেই আমি বিষয়টি নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম। সুযোগটা হলো না! এদিকে প্রধানমন্ত্রী মিতা হকের অসুস্থতার কথা শুনে বলেন, চিকিত্সার খরচ বা আনুসঙ্গিক সাপোর্টেও ব্যাপারে যেন কার্পণ্য না করা হয়। মিতা আপা আজ সব আলোচনার ঊর্ধ্বে চলে গেলেন। ভালো থাকবেন মিতাপা।

লেখক : সংবাদ ব্যক্তিত্ব