হেফাজত-তাণ্ডবে ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪১

হেফাজত ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের চালানো তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের আনুমানিক ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম এমএসসি। গতকাল রবিবার দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এ কথা জানান।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, গত ২৬ মার্চ হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ চলাকালে ৪০০-৫০০ মাদ্রাসাছাত্র এবং দুষ্কৃতরা শহরের কাউতলী এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ডাকবাংলোতে অবস্থানরত তিন জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দারোয়ান কাম-কেয়ারটেকার কোনোরকমে আত্মরক্ষা করেন। এছাড়া বাংলোর তৃতীয় তলায় উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত এক জন শ্রমিক লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতাল চলাকালে মাদ্রাসাছাত্র ও দুষ্কৃতরা অতর্কিতভাবে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভবনের আঙিনায় থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরে তারা কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তারা গ্যারেজে থাকা গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর দ্বিতীয় তলায় এসে বিভিন্ন কক্ষের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জেলা পরিষদ কার্যালয় ও ডাকবাংলো মেরামতে ২ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রয়োজন হবে। আর সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতি টাকার অঙ্কে আনুমানিক ৫ কোটি টাকা হবে। যারা রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান চেয়ারম্যান শফিকুল আলম এমএসসি। সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, সচিব মেহের নিগার, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রতীশ চন্দ্র রায়, হিসাব রক্ষক কাজী সানাউল হক, প্রধান সহকারী মো. নুরুর রহমান, উচ্চমান সহকারী আমির হোসেন, প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হোসেন আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।