বিপাকে চাষিরা
ইত্তেফাক ডেস্ক
বিভিন্ন স্থানে খড়া, কালবৈশাখী ও আচমকা বয়ে যাওয়া গরম হাওয়ায় সম্প্রতি বারো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) :উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ধূলিঝড় ও গরম বাতাসে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলহারা মাঠে এখন চলছে কৃষকের বুকফাটা আর্তনাদ। নান্দাইল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় গরম বাতাসের কারণে প্রায় ২৫০ হেক্টর বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ১ হাজার ২০০ হেক্টর। কৃষক আব্দুস সালাম, রশিদ, মুজিবুর বলেন, ‘গরম বাতাসে খেতের সব ধান চিটা অইয়া গেছে।’ নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, এই সময়টাতে দুর্যোগপূর্ণ হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় এই ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
মেলান্দহ (জামালপুর) :মেলান্দহে গরম হাওয়ায় বোর ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তাত্ক্ষণিকভাবে ফসলের আংশিক ক্ষতির পরিমাণ ৫ শতাংশ হিসাবে ১৩৫ জন কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি দেখানো হলেও; মাঠ পর্যায়ে এর পরিমাণ আরো বেশি। সম্পূর্ণ ধানের ক্ষতির পরিমাণ দেখানো না হলেও; বাস্তবে ১১টি ইউনিয়নের কমপক্ষে তিন শতাধিক কৃষকের ২০০-৩০০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিআর-২৮/২৯ জাতের ধানের ক্ষতি বেশি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ধানখেত পরিদর্শন করেছি।
কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) :অনাবৃষ্টিতে ফসলের গাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় পানির অভাবে ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের পশ্চিম আউরা ও বড় কাঠালিয়া গ্রামে অধিকাংশ ফসলের ফুল ও ফল রোদের তাপে ঝড়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলার কৃষি অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিগত ছয় মাস যাবত্ বৃষ্টি না হওয়ায় পর্যাপ্ত সেচের অভাবে বিগত বছরের চেয়ে এ বছর তুলনামূলক কিছু কিছু গাছের বৃদ্ধি অনেকটা ব্যাহত হয়েছে।
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : চলতি মৌসুমে হঠাত্ করে খেতের পর ক্ষেত বোরো ধান পুড়ে যাওয়ায় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চরম বিপাকে পরেছেন বলে জানিয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ফতেপুর, লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ধানখেত পুড়ে ধানে চিটা হয়ে যাচ্ছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে ফতেপুর, সলিমনগর, যুগিরকোপা, বান্ধরমারা, গোড়াকি, গেড়াকি, বান্দাচালা ও বেলতৈল গ্রামে। উপজেলা কৃষি অফিসের লতিফপুর ইউনিয়নের ব্লক সুপারভাইজার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বলেন, কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ধান পুড়ে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া এবং প্রচণ্ড গরম হাওয়া। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, তীব্র গরম হাওয়ায় ব্যাকটেরিয়াল পেনিক্যেল ব্লাইট রোগে বোরো ধানের শীষ পুড়ে ধান গাছ সাদা ও চিটা হয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০-২৫ হেক্টর।
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) : টানা পাঁচ-ছয় মাসের খরায় মাঠের ফসল পুড়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড খরায় ভুট্টা, ধান ও মরিচসহ অন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সারওয়ার জামান খরার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন হবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
