শেষ ৪ দফায় বেশি ভোট ঝুলিতে ভরতে মরিয়া বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস দুই পক্ষই। যুযুধান এই লড়াইয়ে নিজেদের পালে হাওয়া টানতে গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গে তিনটি করে সভা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। জড়িয়ে পড়েন বাগ্যুদ্ধে। মোদি বললেন, কোচবিহারের ঘটনা দিদির ছাপ্পা ভোটের প্ল্যানের অংশ। মমতা বললেন, মোদি গুন্ডাদের চৌকিদার। গুলি করে মানুষ মারার পরেও তার অনুশোচনা হয়নি!
গত শনিবার কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার কল্যাণীতে এক জনসভায় নরেন্দ্র মোদি বললেন, ‘কোচবিহারের ঘটনা আসলে দিদির ছাপ্পা ভোটের মাস্টার প্ল্যানের অংশ। মমতা রাজ্যের আদিবাসী, দলিত, তফসিলি, মতুয়া, নমঃশূদ্রদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চান। সেজন্যই ছাপ্পার পরিকল্পনা। একটা দলকে বলছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করতে। আরেকটা দলকে বলছেন বুথে গিয়ে ছাপ্পা মারতে। তার জেরেই ঐ ঘটনা। কল্যাণী ও সংলগ্ন অঞ্চলে মতুয়া ভোটার প্রভাবিত। এদিনের সভায় মোদি বলেন, মানুষের গণতন্ত্র রক্ষা করা মতুয়াদের ধর্মগুরু হরিচাঁদ ঠাকুরের জীবনের উদ্দেশ্য ছিল। আর সেই উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে অনুপ্রেরণা পেতেই বাংলাদেশের ওড়াকান্দি সফরে গিয়েছিলেন তিনি। এর পরই মমতাকে খোঁচা দিয়ে মোদি বলেন, ‘আমার ওড়াকান্দি যাওয়াটাই দিদির পছন্দ হয়নি। ওড়াকান্দিতে যাওয়াটা কি ভুল ছিল?’ বারাসাতের সভায় মোদি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ?৪ দফাতেই বিজেপির আসনের সেঞ্চুরি হয়ে গেছে। দিদি হেরে গেছেন। ৪ দফার নির্বাচনে তৃণমূলের সাফ হওয়া নিশ্চিত। দুই দিন পরেই পশ্চিমবঙ্গে পহেলা বৈশাখ। ঐদিন থেকেই দিদির সরকারের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাবে। ২ মে দিদি যাচ্ছেন। বিজেপি আসছে।’? এছাড়াও বর্ধমানে আরেকটি সভা করেন তিনি।
অপরদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে এক জনসভায় মমতা বলেন, ‘?১০ এপ্রিল ভোটের দিন নরেন্দ্র মোদির সরকার গুলি চালিয়ে দিল। আমরা চার ভাইকে কেড়ে নিল। তার পরও কোনো অনুতাপ নেই তার মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী এসে ক্লিন চিট দিয়ে চলে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মানুষ মানুষে বিভেদ লাগিয়ে দিচ্ছেন। আমরা এনপিআর চাই না। আমরা এনপিআর করতে দেইনি। করতে দেব না। আপনারা সবাই এখানকার নাগরিক। বাংলাদেশের মানুষ পশ্চিমবঙ্গে এলে মোদিন বলেন, মমতা ব্যানার্জি অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছে। আর নরেন্দ্র মোদি ভোটের সময় ভোটবাক্স ভরার জন্য ওখানে চলে গেলেন। ভোটের রাজনীতি হচ্ছে!’? মমতা মোদির উদ্দেশে বলেন, ‘?এত ভোটই যদি পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাবেন তো রোজ দিল্লি থেকে কলকাতা আসা-যাওয়া করছেন কেন?? আসামে ১৪ লাখ লোককে ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ মমতা আরো বলেন, ‘আমরা মানুষের পাহারাদার। মানুষের দুঃখে আছি। ভোট চাইবার সময়ে হিন্দু-মুসলমান কেন??’?
মমতার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা : এদিকে, নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রচারে ২৪ ঘণ্টার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সোমবার রাত ৮টা থেকে মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি কোনো রকম নির্বাচনি প্রচার করতে পারবেন না।
