কোরআনের ২৬টি আয়াত বাতিলের রিট ভারতের সুপ্রিম কোর্টে খারিজ

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৭

ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের ২৬টি আয়াত নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে করা একটি জনস্বার্থ পিটিশন গতকাল সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এরকম একটি সম্পূর্ণ অর্থহীন পিটিশন দাখিল করার জন্য আবেদনকারী সৈয়দ ওয়াসিম রিজভির ৫০ হাজার রুপি জরিমানাও করা হয়েছে। খবর বিবিসির

সৈয়দ ওয়াসিম রিজভি উত্তরপ্রদেশের শিয়া ওয়াক্ফ বোর্ডের একজন সাবেক চেয়ারম্যান এবং দেশের শিয়া মুসলিম সমাজের একজন প্রভাবশালী নেতা। গত ডিসেম্বরে তিনি কোরআনের বিশেষ কয়েকটি আয়াত অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবিতে শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। এই আয়াতগুলো মূল কোরআনের অংশ নয় বলেও পিটিশনে দাবি করা হয়েছিল। তার যুক্তি ছিল, এই আয়াতগুলো মুসলিমদের তরুণ প্রজন্মকে শিখিয়ে বিধর্মীদের, বিশেষত মূর্তিপূজায় বিশ্বাসীদের হত্যা করতে উত্সাহিত করা হচ্ছে।

বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন বিচারপতি রোহিংটন নরিম্যান। তিনি এমনো প্রশ্ন তোলেন, আবেদনকারী কি এই পিটিশন নিয়ে সত্যিই সিরিয়াস? আমরা তো বিশ্বাসই করতে পারছি না! অর্থহীন বিষয় নিয়ে মামলা রুজু করে আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য আবেদনকারীর আর্থিক জরিমানা করারও সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ আদালত। বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী বিধর্মীদের ওপর হামলা চালানোর সাফাই হিসেবে এই আয়াতগুলো কাজে লাগাচ্ছে বলেও যুক্তি দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে গতকাল প্রথম দিনের শুনানিতেই তিন বিচারপতির বেঞ্চ আবেদনটিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মৌলানা মাহমুদ দরিয়াবাদী বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, পবিত্র কোরআনের কোনো আয়াত মানুষকে সহিংসতায় প্ররোচিত করে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ড এবং আরো নানা মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকেও অভিযোগ আনা হয়েছিল, সৈয়দ ওয়াসিম রিজভি সম্পূর্ণ প্রসঙ্গ বহির্ভূতভাবে কোরআনের অপব্যাখ্যা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার অভিযোগে রিজভিকে নোটিশ পাঠিয়েছিল দেশের জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনও।

দক্ষিণ ভারতের আর্কটের নবাব মোহম্মদ আবদুল আলিও বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যদি এই আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে, তাহলে সেটা হবে নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন। শুধু ভারতে নয়, প্রতিবেশী বাংলাদেশেও খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থি সংগঠন কোরআনের আয়াত নিষিদ্ধ করার দাবিকে আল্লাহর সঙ্গে চরম ধৃষ্টতার শামিল বলে বর্ণনা করেছিল। তবে গতকাল সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি অঙ্কুরেই বিনষ্ট হওয়ার পর এই বিতর্কের অবসান হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

গতকালের শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আর কে রাইজাদা অবশ্য যুক্তি দিয়েছিলেন, মাদ্রাসাশিক্ষাকে একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার সীমিত লক্ষ্য নিয়েই এই পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার সাবমিশন হলো—এই বিশেষ আয়াতগুলো বিধর্মী বা কাফেরদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেয়। খুব অল্প বয়স থেকে যে বাচ্চাদের মাদ্রাসায় থেকে পড়াশুনা করতে হয়, তাদের এগুলো শিখিয়ে মগজধোলাই করা হয় যা কখনোই কাম্য নয়,—যুক্তি দেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ অবশ্য এরপরও পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, তারা এই বিষয় নিয়ে কোনো তর্কবিতর্ক শুনতেও আগ্রহী নয়। আবেদনকারীকে ৫০ হাজার রুপির প্রতীকী জরিমানা করে তারা আবেদনটিকে পত্রপাঠ খারিজও করে দেন।