ব্যক্তিত্বের আপন আলোয়

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:২৩

আমাদের অনেকেই আছেন, যারা জানেন না বিভিন্ন স্থানে কেমন আচার-ব্যবহার প্রদর্শন করতে হবে। যেমন— রেস্টুরেন্ট কিংবা কর্মক্ষেত্রে যার যার আচরণ, কথাবার্তায় সহজেই বোঝা যায় তার ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য। একই কথা প্রযোজ্য বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে ব্যবহারের বেলাতেও। কার সঙ্গে কিভাবে কথা বলতে হয়, কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা হয়তো অনেকে ভাবেন না। এর ফলে অনেক সময়ই দেখা দিতে পারে প্রাপ্য সম্মান অর্জন না হওয়াসহ অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনা। নিজের ব্যক্তিত্বের আপন আলোর বিচ্যুরণ ঘটানোর পরামর্শ নিয়ে এবারের আয়োজন।

               মডেল    পূর্ণিমা

                  ছবি    মোহসিন আহমেদ কাওছার

 

 

 

n  নওশীন শর্মিলী

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

আপনার সন্তানকে নিয়ে টিচার বা তার সহপাঠীদের অভিযোগ রয়েছে? মাথা গরম করবেন না। ঠাণ্ডা মাথায় শুনুন। কেউই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। টিচার বা অন্য অভিভাবকের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করবেন না। মনে রাখবেন, স্কুুলে আপনার অনুপস্থিতিতে বাচ্চা তার টিচার বা বন্ধুদের সঙ্গেই থাকবে এবং তার দেখাশোনা করবে। কথা বলুন সবার সঙ্গে, আর বুঝে নিন কোথায় সমস্যা হচ্ছে। হুট করে রাগের মাথায় বাচ্চাকে সবার সামনে বকা দেবেন না বা গায়ে হাত তুলবেন না। বাচ্চা যতই ছোট হোক না কেন, তার আত্মসম্মানের ভিতটা এখান থেকেই তৈরি হয়।

রেস্টুরেন্ট

খাবারের দোকানে আচার-ব্যবহারের বিষয় কমবেশি সবাই আমরা জানি। রেস্টুরেন্টগুলোতে জোরে কথা বলা একদমই অনুচিত। বন্ধুবান্ধব নিয়ে খেতে গেলেও খেয়াল রাখুন, আপনাদের আড্ডার কারণে আশপাশের মানুষ বিরক্ত হচ্ছে কি না। টেবিলের ওপর ব্যাগ, চাবি এসব না রাখাই ভালো। চেয়ার টানার সময় হালকা উপরের দিকে তুলে নিয়ে তারপর টানুন। এতে শব্দ কম হবে। আর ইদানীং রেস্টুরেন্টগুলোতে ওয়েটাররা অনেক সময় এসে জিজ্ঞেস করে খাবার কেমন হয়েছে, সেক্ষেত্রে আপনার অভিমত ভদ্রতার সঙ্গে জানান। যতই মজার গল্প হোক, মুখে খাবার নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করবেন না। এটা একদিক দিয়ে যেমন অশোভন, অন্যদিক দিয়ে আপনাকেও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে। কিছু মানুষকে দেখা যায় খাবার পছন্দ না হলে চিত্কার-চেঁচামেচি করে, যা মোটেও ভদ্রতাসূচক আচরণের মধ্যে পড়ে না। বিল দিলে ভালোমতো চেক করুন। যদি সার্ভিস চার্জ যোগ করা না থাকে, তবে আপনার সাধ্যমতো টিপস দিন।

ঘরের বাইরে পথচলায়

রাস্তায় যে সমস্যা প্রায়ই হয়, তাহলো ফুটপাথে কিছু মানুষ নিজস্ব ধীর গতিতে হাঁটে। আপনার পিছনেও একজন মানুষ হয়তো খুব তাড়ায় আছেন। আপনার আস্তে হাঁটা হয়তো তার জন্য বিরক্তির উদ্রেক করছে। আর ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হওয়ার অভ্যাসও বাদ দিন। প্রায়ই দেখা যায়, অনেক শিক্ষিত মানুষও রিকশাওয়ালা বা অন্য কোনো নিম্ন পেশাজীবী কারও গায়ে হাত তুলছেন বা বাজে ব্যবহার করছেন। মাথায় রাখবেন, আপনি কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্বের প্রকাশ করছেন সেখানে। আপনার ব্যবহার দিয়েই আপনাকে চেনা যাবে, সুতরাং সামলে চলুন নিজেকে, আর মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। চলতে ফিরতে কিছু অযাচিত ঘটনা ঘটে যেতেই পারে। মাথা গরম না করে পরিস্থিতি সামাল দিন।

 

অফিস বা কর্মক্ষেত্রে

এখনকার কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ আর আগের মতো নেই। বেশ বদলে গেছে। কর্পোরেট দুনিয়ায় প্রফেশনাল শব্দটি হরহামেশাই ব্যবহূত হচ্ছে। তাই এখানে কোনো ভুল এড়িয়ে চলার প্রথম সূত্র হলো নিজেকে সম্পূর্ণ প্রফেশনাল করে তোলা। প্রথমেই অতিরিক্ত বন্ধুুত্বের হাত বাড়াতে যাবেন না। প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র এই চাকরি জীবন। তাই যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু সৌজন্য বজায় রেখে সহকর্মীদের সঙ্গে ব্যবহার করুন। অন্য কারও প্রয়োজনে সাহায্য করলেও অন্য কারও থেকে সহজে সাহায্য না নেওয়াই ভালো। আর কাজের বাইরে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করবেন না সহকর্মীদের সঙ্গে। একসঙ্গে কাজ করতে গেলে নিজেদের মধ্যে কিছুটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, এটাই স্বাভাবিক, তবে সেই বন্ধুত্ব রক্ষা করতে গিয়ে সময়ের অপচয় করবেন না। আর নিজের পারিবারিক ব্যাপার বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা কর্মক্ষেত্রের বাইরে রাখাই বাঞ্ছনীয়, তা যে পেশায়ই আপনি থাকুন না কেন। অফিসে যথাসম্ভব ফোনে কম কথা বলার চেষ্টা করুন। আর কথা বললেও আস্তে আস্তে, আপনার কথা যেন অন্য কারও কাজে ব্যাঘাত না ঘটায়।

 

পোশাক নির্বাচন

পোশাকের দামের দিকে খেয়াল না করে যেই পোশাক পরছেন, তা বর্তমান ফ্যাশনের সঙ্গে যাচ্ছে কি না সেটি খেয়াল করুন। আর সব জায়গার জন্য সব পোশাক নয়, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে যে পোশাকে যাবেন, কলিগদের সঙ্গে কিন্তু সে পোশাকে না-যাওয়াই ভালো। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে পোশাকের ধরন পরিবর্তন করতে হয়। আবার অনুষ্ঠান কখন হচ্ছে তার ওপরও পোশাকের ভিন্নতা নির্ভর করে। দিনের পোশাক একরকম হবে, আর রাতের পোশাক আরেকরকম। আর অফিসে চেষ্টা করুন সুন্দর কিন্তু হালকা পোশাক পরতে। এতে কাজ করতে যেমন সুবিধা হবে, তেমনি আপনার রুচির পরিচয়ও পাওয়া যাবে। পোশাকের সঙ্গে হালকা গয়না, যেমন—ছোট কানের দুল বা একটা চুড়ি লাগাতে পারেন, তবে তা অবশ্যই খুব ভারী হওয়া উচিত না। আর রাতের অনুষ্ঠান হলে ভারী সাজ করা যায়, কিন্তু ইদানীং হালকা সাজের চলটাই বেশি। আর ছেলেরা তাদের পোশাকের সঙ্গে কিছু অনুষঙ্গ রাখতে পারেন, যেমন :ঘড়ি। যাই পরুন না কেন, মাথায় রাখুন তা আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যাচ্ছে কি না। যদি আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানিয়ে যায়, তবে সব পোশাকই মানানসই।