শিশির ভেজা প্রকৃতি

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:২৯

 

n  মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম

 

মাঘের শীত উপেক্ষা করা প্রহরীর রাতের নীরবতা চৌচির করা ‘হুঁশিয়ার! সাবধান!’ ডাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কুয়াশা। দূর থেকে ভেসে আসা বেওয়ারিশ কুকুরের ঘেউ গিলে নিচ্ছে অন্ধকার। এই সবকিছু ছাপিয়ে বাদামতলীতে বিলাসের বাড়ির ছাদে চলছে দে-ছুট ভ্রমণ সংঘের বারবিকিউ। রাত সাড়ে তিনটায় ছন্দপতন ঘটল। জ্বলতে জ্বলতে কয়লা শেষ। কী আর করা! এরপর খানিকটা ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু ঘুম এল না।

ফজরের আজান দিতেই নামাজ আদায় করে মোটরবাইক স্টার্ট দিয়ে ছুটলাম কুয়াশার চাদরে মোড়ানো পথে। পথে রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকা হতে শাকিল সঙ্গী হলো। একটা সময় পর হেমায়েতপুর পেরিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর সড়কে বাইক ছুটছে। ধল্লা বাজারের ঠিক কিছুটা আগেই চোখে ধরা দিল শিশির ভেজা ফসলের মাঠ। সত্যিই অপরূপ দৃশ্য! শহুরে জীবন আজকাল শীতের সকালের এমন রূপ দেখেই না বলা চলে। যেতে যেতে গাছির বাড়ি গিয়ে হাজির হলাম। আগে থেকেই বলে রাখায় খেজুররসের হাঁড়ি রেখেছিল রেডি। একে একে গোগ্রাসে চলল রসের মগে চুমুক। নিমিষেই প্রায় ১০ লিটার নিঃশেষ। তাতে কি বাকি আছে আরও ১২ লিটার। আজকের ঘোরাঘুরিতে পানির বদলে চলবে রস। গত দু মাসে ডায়েট করে ১৩ কেজি দেহ কমানোর মানসিক প্রতিবাদ হবে আজ।

গাছির বাড়ির পাশেই দেখলাম গাজর পরিষ্কার করার অভিনব কৌশল। চলে গেলাম এবার সরাসরি গাজর ক্ষেতে। দেখলাম চাষি ভাইয়েরা কিভাবে জমি থেকে গাজর তুলছে। ভ্রমণ মানেই প্রতিনিয়ত নতুন কিছুর সঙ্গে পরিচিতি হওয়া। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনধারা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করা। ভ্রমণ শুধু বিনোদন না, প্রকৃতি হতে শিক্ষা লাভেরও অন্যতম মাধ্যম। গাজর ক্ষেতে বেশ কিছুক্ষণ কাটিয়ে হেঁটে বেড়াই গ্রামের মেঠোপথে। শিম গাছের ফুলগুলো বেশ কাছে টানে। হাঁটাহাঁটি শেষে আবারও বাইক স্টার্ট দিলাম। যাচ্ছি এবার গোলাপ বাগান দেখতে। গ্রামের নিরিবিলি পথে বাইক রাইডের মজাই আলাদা। কিছুক্ষণ চলার পরেই চোখে ধরা দেয় ডাউস সাইজের গোলাপ বাগান। বাগান ভর্তি লাল টকটকে গোলাপ। ফুলের সাইজও বেশ বড়। গ্রামটার নাম ধল্লা। ঢাকার এত কাছে এরকম সুন্দর গ্রাম এখনো যে টিকে আছে, তা ভাবতেই বেশ ভালো লাগে।

তবে নগরায়ণের কথা মনে পড়ায় আতঙ্কিত হলাম। এখনো এ গ্রামগুলোই সযত্নে রেখেছে প্রকৃতিকে। আর শহরগুলো তো প্রতিদিনই সবুজ খেয়ে খেয়ে বাড়িয়ে তুলছে কংক্রিটের জঙ্গল। গ্রামগুলোর জন্যই আমরা আজও বলতে পারি, আমাদের দেশটা অনেক সুন্দর! যদিও ধল্লা গ্রামটা ঘুরে দেখা শেষে ফিরে চললাম সেই শহরেরই বুকে। মনে মনে বললাম, শহরের কুনজর এড়িয়ে বেঁচে থাকুক গ্রামগুলো। বেঁচে থাকুক রূপসী বাংলাদেশ।

 

যাবেন কিভাবে

মতিঝিল, গুলিস্তান, গাবতলী থেকে সাভারগামী বাসে চড়ে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড যেতে হবে। সেখান থেকে অটো বা সিএনজি করে মিরের চর, ধল্লা গোলাপবাগানসহ বিভিন্ন গ্রাম দিনে দিনে ঘুরে আসা যায়।

 

খরচপাতি

সারাদিন ঘুরে আসার জন্য জনপ্রতি ৫০০/৬০০ টাকা হলেই যথেষ্ট।