>> আরিফুজ্জামান উজ্জল
বাঘবিধবা, মুন্ডা জনগোষ্ঠী ও উপকূলীয় অঞ্চলের অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন আশিক। আশিক গড়ে তুলেছেন ইনিশিয়েটিভ ফর কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট (আইসিডি) নামে একটি সংগঠন। এ সংগঠনের মাধ্যমে বাঘবিধবা ও মুন্ডা জনগোষ্ঠীদের আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি।
তার পুরো নাম মো. আশিকুজ্জামান। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার কয়রা গ্রামে। সুন্দরবনে অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে এ এলাকার অনেকের মৃত্যু হয়। আর বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারানো ব্যক্তির স্ত্রীকে বলা হয় ‘বাঘবিধবা’। এসব বাঘবিধবা ও এখানে বসাবসরত মাহাতো জনগোষ্ঠী অসহায় আদিবাসী মুন্ডাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘আইসিডি’। সংগঠটির মাধ্যমে এ পর্যন্ত আশিক পাঁচ শতাধিক মুন্ডা পরিবার ও বাঘবিধবাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করেছে। এর মধ্যে তিন বনজীবী নারীকে নৌকা, সাত নারীকে সেলাই মেশিন, ৩০ জন বনজীবী মুন্ডা নারীর মাঝে নৌকা, বাঘবিধবাদের মাঝে কম্বল এবং ৩০ জন বাঘবিধবাকে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে। এছাড়া করোনাকালে এবং ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পর এলাকার প্রায় ৮ হাজার অসহায় পরিবারকে খাদ্যসহায়তা, সাতটি নলকূপ স্থাপন এবং আম্ফানে বিধ্বস্ত ১০ পরিবারকে টেকসই ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে আইডিসি। সংগঠনটি মুন্ডা জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের মাঝে শিক্ষার আলো জ্বালাতে গড়ে তুলেছে স্কুল। মুন্ডা জনগোষ্ঠীর মুক্তির আন্দোলনের মহানায়ক বিরসা মুন্ডার নামে স্কুলটির নামকরণ করেছেন ‘বিরসা মুন্ডা প্রভাতি স্কুল’। মো. আশিকুজ্জামান বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের মাধ্যমে কয়রায় পিছিয়ে পড়া মুন্ডা সম্প্রদায়, বাঘবিধবা ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানোর জন্যই আইসিডি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমার স্বেচ্ছাসেবী কাজে অনেকে সহযোগিতা করছেন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
০
