ঘুরে দাঁড়াতে আর্থিক প্রণোদনা জরুরি

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ২১:৫৮

কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে শিক্ষাপঞ্জি ও শিক্ষাব্যবস্থাপনা দুটোই সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে গেছে। বেসরকারি প্রাক-প্রাথমিক (কিন্ডারগার্টেন) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চার লক্ষাধিক মানুষ শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। করোনাভাইরাস বিস্তারকালে ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারিভাবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি-র ওপর শতভাগ নির্ভরশীল এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় এর মধ্যে চরম অর্থ সংকটের মুখে নিপতিত। ভাড়াবাড়িতে পরিচালিত এসব বিদ্যায়তনের অনেক উদ্যোক্তা পরিচালক আর্থিক টানাপড়েনে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ও শিক্ষা-উপকরণসহ পুরো প্রতিষ্ঠানের মালিকানাও বিক্রি করে দিয়েছেন। শত শত শিক্ষক রুজি-রুটির তাগিদে অনন্যোপায় হয়ে শিক্ষকতার মতো মহান পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই অর্থের অভাবে এখন মানবেতর দিন যাপন করছেন। সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে এদের উদ্যোক্তা পরিচালকদের জন্য সরকারের তরফ থেকে সহজ শর্তে সুদ বিহীন বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ বরাদ্দ করা জরুরি। এতে করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পাবে। অধ্যয়নরত সহস্র শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া রোধ হবে এবং এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ জ্ঞান বিতরণের মহত্ কর্মে ফের নতুন উদ্যমে নিজেদের নিয়োজিত রাখার সুযোগ পাবেন।

ওয়ারেছ আলী খান

উপজেলা মোড়, সদর, নরসিংদী ১৬০২