কাজী শাহ্জাহান সবুজ, বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকায় নানা সমস্যার কারণে ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। অথচ এ বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীদের নানামুখী সুযোগ থাকলেও তারা ব্যবসা করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। কলকাতা থেকে বেনাপোল বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার এবং সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দেশের আমদানিকৃত পণ্যের সিংহভাগ আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতিদিন বাড়ছে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ কিন্তু বন্দরের পরিধি না বাড়ায় বিপাকে পড়ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। জায়গা সংকটের কারণে রাখা হচ্ছে যত্রতত্র মালামাল। এসব কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সমস্যা নিরসনে কলকাতা কাস্টম হাউজ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি পত্র দেন কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনারকে।
এদিকে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বেনাপোল বন্দরের তিন কিলোমিটার সড়কে ভারতে যাতায়াতকারী দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে দুইটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্যও একটি পত্র দেওয়া হয়। পরে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে জরুরিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে ২০ মার্চ বাংলাদেশ স্থলবন্দর সচিব এবং বন্দর চেয়ারম্যান বেনাপোল বন্দর সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বন্দরের জন্য ২০০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, জমি অধিগ্রহণসহ বেনাপোলে কনটেইনার টার্মিনাল, ওপেন ইয়ার্ড, হেভি ইকুইপমেন্ট মেশিন, পর্যাপ্ত শেড এবং এয়ারকন্ডিশন ইয়ার্ড একান্তই প্রয়োজন।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক মো. মামুন কবীর তরফদার জানান, প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক এবং ৫০০ থেকে ৬০০ বাংলাদেশি ট্রাক বন্দরে আসে। টার্মিনালটি নির্মাণ করা হলে প্রায় ১ হাজার ২৫০টি যানবাহন পার্কিং করা সম্ভব হবে। প্রকল্পের আওতায় ২৯ দশমিক ১০ একর জমি অধিগ্রহণ, ২ লাখ ৪৫৬ হাজার ৯৭ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, ২ হাজার ১০০ মিটার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, ৬ হাজার বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গমিটার পার্কিং ইয়ার্ড, ১ হাজার ৭৪৭ বর্গমিটার ভবন নির্মাণ, দুইটি মেইন গেট, দুইটি গেস্ট হাউজ ও সিকিউরিটি সিস্টেম, চারটি ওয়াচ টাওয়ার এবং ১ হাজার ৬৫০ বর্গমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এদিকে জানা গেছে, স্থলবন্দরে ২০ মার্চ সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
