মাছ ধরতে না পারায় নাঙ্গলকোটে জেলে পরিবারগুলোতে দুর্দিন

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ২২:০২

ডাকাতিয়া নদী পানিশূন্য প্রায়

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

নাঙ্গলকোটে ডাকাতিয়া নদী ও পার্শ্ববর্তী খাল-বিলের পানি শুকিয়ে গেছে। ফলে মাছ ধরতে না পারায় জেলে পরিবারগুলোতে এখন চলছে চরম দুর্দিন।

উপজেলার ডাকাতিয়া নদী তীরবর্তী এলাকার অনেক জেলে নদীসহ পার্শ্ববর্তী শাখা খালে জাল বসিয়ে মাছ শিকার করে। কিন্তু বর্তমানে ডাকাতিয়া নদীসহ পার্শ্ববর্তী খাল ও বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় জেলেরা এখন বেকার। বিশেষ করে উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের চাঁন্দেরবাগ গ্রামের দেড় শতাধিক জেলে পরিবার বংশ পরম্পরায় বহুদিন থেকে গ্রামের পার্শ্ববর্তী ডাকাতিয়া নদী, শাখা খাল ও বিল থেকে মাছ শিকার করে সংসার চালাত। এদিকে উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তরের আওতায় অলস সময়ে অর্থ উপার্জনের জন্য ৩০ জন জেলেকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো তাদের সেলাই মেশিন দেওয়া হয়নি। সরেজমিনে চাঁন্দেরবাগ গ্রামে দেখা গেছে, জেলেরা তাদের বাড়ির আঙিনায় গাছের সঙ্গে জাল ঝুলিয়ে রেখেছেন। চাঁন্দেরবাগ গ্রামের বৃদ্ধ জেলে যোগেশ চন্দ্র দাস (৭৫) জানান, বর্ষাকালে চার মাস ডাকাতিয়া নদী ও শাখা খালে মাছ শিকার করে পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও অবশিষ্ট আট মাস আমাদের খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকতে হয়। জেলে শিমুল চন্দ্র দাসের স্ত্রী পবিত্র রাণী দাস জানান, আমার স্বামীর কোনো কাজ না থাকায় অর্ধাহার অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। সরকারিভাবে ভিজিএফের অধীনে হতদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল বিতরণের কার্ড এখনো অনেক পরিবার পায়নি। তিনি সব পরিবারকে কার্ডের আওতায় আনার দাবি জানান।

পার্শ্ববর্তী পিপড্ডা গ্রামের সাংবাদিক শরীফ আহমেদ মজুমদার বলেন, এক সময় ডাকাতিয়া খরস্রোতা নদী ছিল। জেলেরা এ নদী থেকে মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। এখন নদীর নাব্য হ্রাস পাওয়ায় দ্রুত পানি শুকিয়ে যায়। ফলে আগের মতো নদীতে  মাছ পাওয়া যায় না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নজির আহমেদ বলেন, আমার ওয়ার্ডে ভিজিএফের বরাদ্দ কার্ডের মধ্যে চাঁন্দেরবাগ গ্রামের অধিকাংশ পরিবারকে দেওয়া হয়েছে।

রায়কোট উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার রফিকুল ইসলাম মজুমদার বলেন, অবহেলিত চাঁন্দেরবাগ গ্রামবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সার্বিক বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছ। ক্রমান্বয়ে সবাইকে সব ধরনের সহযোগিতার আওতায় আনা হবে। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জেলেদের জন্য শিগিগরই সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লামইয়া সাইফুল বলেন, কেউ যদি ভিজিএফের কার্ড পাওয়া থেকে বাদ পড়ে, তাহলে আমাদের অবগত করলে ব্যবস্থা করা হবে।