স্পোর্টস রিপোর্টার
নিগার সুলতানা জ্যোতি, বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের নিয়মিত উইকেটকিপার-ব্যাটার। সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, রুমানা খাতুনরা দলে থাকলেও ২৩ বছর বয়সি জ্যোতির ওপরই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ইমার্জিং নারী দলের অধিনায়কত্বের ভার তুলে দিয়েছিল বিসিবি। করোনার কারণে শেষ ম্যাচটা না হলেও প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সিরিজটা ৪-০ তে জিতেছে বাংলাদেশ।
শুধু অধিনায়ক নয়, ব্যাটিংয়েও এ সিরিজে দলের সেরা জ্যোতি। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। চার ম্যাচে করেছেন ২১৭ রান। সিলেটে দ্বিতীয় ম্যাচে ১৩৫ বলে অপরাজিত ১০১ রান এবং চতুর্থ ম্যাচে ১৩২ বলে অপরাজিত ১০১ রান করেন ডানহাতি এ ব্যাটার।
নেতৃত্বের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে সফল হওয়ায় দারুণ খুশি তিনি। গতকাল আলাপকালে জ্যোতি বলেছেন, তিনে ব্যাট করায় দায়িত্ব ছিল বড় ইনিংস খেলা। মানসিকভাবে প্রস্তুতি থাকায় সেঞ্চুরি পেয়েছেন। নিজের ব্যাটিংয়ে উন্নতিতে কোচ শাহনেওয়াজ শানুর অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে জ্যোতি এখন বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলার স্বপ্নে বিভোর। সম্প্রতি টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে বাংলাদেশ নারী দল।
টেস্ট খেলার স্বপ্ন লালন করেই বড় হয়েছেন জ্যোতি। এখন সাদা পোশাকে খেলতে নামার সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমি শুরু থেকে টেস্ট খেলতে দেখতে খুব পছন্দ করতাম। এবং সাদা পোশাকে খেলার খুব স্বপ্ন ছিল যে, আমরা যদি সাদা পোশাকে খেলতে পারতাম। যখন শুনতে পেলাম টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়ে গেছি আমরা তখন অনেক ভালো লাগা কাজ করেছে। ক্রিকেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ফরম্যাটে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে আমরা সকলে অনেক আনন্দিত।’
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজের আগে ক্যাম্পে ব্যাটিং নিয়ে কাজ করার সুফল পেয়েছেন জ্যোতি। গতকাল বলেছেন, ‘যখন থেকে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি, আমি ব্যাটিংয়ে বেশি জোর দিয়েছিলাম। কষ্ট করেছি, পরে ক্যাম্পে এসেও ব্যাটিংয়ে বেশি ফোকাস করছি, এজন্যই মনে হয় ভালো করতে পেরেছি।’ বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের সেঞ্চুরি কদাচিত্ দেখা যায়। সিলেটের ক্যাম্পে খেলা প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে কয়েকবার আউট হয়েছিলেন জ্যোতি। সেই না পারার অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন, কাজে লাগিয়েছেন সর্বশেষ সিরিজে।
জ্যোতি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে কম রানে আউট হই। দ্বিতীয় ম্যাচে আমার আশা ছিল সেঞ্চুরি করব, হাফ সেঞ্চুরির আশা করি নাই। একবার সেঞ্চুরি করার পর আসলে পরের সেঞ্চুরিটা সহজ হয়ে গেছে। মানসিকভাবে প্রস্তুতির কারণেই আসলে সেঞ্চুরিগুলো আসছে।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বরাবরই ব্যাটিং ব্যর্থতায় জয়ের সুযোগ হারায় বাংলাদেশের নারী দল। জ্যোতির আশা, এই সিরিজের পর দলগতভাবে ব্যাটিংয়ে উন্নতি আসবে। এবার রান করে ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। ব্যাটিংয়ে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে জ্যোতি বলেছেন, ‘আমার প্ল্যান থাকে প্রথম থেকে অন্তত ৪০ ওভার পর্যন্ত খেলব। তাহলে একটা ইনিংস তৈরি হয় দলের। আমি আসলে এভাবেই প্ল্যান করি। এখন আসলে দায়িত্বটা এমন হয়ে গেছে।’
