পঞ্চগড়ের আলু যাচ্ছে মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কায়

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২২:০৪

সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের উত্পাদিত আলু যাচ্ছে মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কায়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে গ্রানুলা ও ডায়মন্ড জাতের আলু বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি ১৪ টাকা দরে বিএডিসি কৃষকদের কাছ থেকে এসব আলু ক্রয় করছে। পঞ্চগড় থেকে ৫০০ মেট্রিক টন আলু রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এ পর্যন্ত ৯৮ মেট্রিক টন রপ্তানি হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পঞ্চগড় থেকে ১৪ মেট্রিক টন আলু পাঠানো হয় রপ্তানির জন্য। তবে আগামী বছর রপ্তানির পরিধি আরো বাড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। বাজার দরের চেয়ে বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরাও বেশ খুশি।

বিএডিসি পঞ্চগড় অফিস জানায়, পঞ্চগড় থেকে গত ৩০ মার্চ আলু রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করে বিএডিসি। দেশের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কে এস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মাসাওয়া অ্যাগ্রো লিমিটেড, অ্যাগ্রোটেক বিডি, বরুন অ্যাগ্রো লিমিটেড আলু রপ্তানির কাজ করছে। সাড়ে ৮ কেজির প্রতি প্যাকেট আলু পঞ্চগড় থেকে ট্রাকযোগে প্রথমে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে। পরে সেখান থেকে কার্গো জাহাজে করে পৌঁছানো হচ্ছে মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কায়। ৯০ থেকে ২০০ গ্রাম ওজনের বড় আলুগুলোই কেবল রপ্তানির জন্য বাছাই করা হয়। প্রতি কেজি ডায়মন্ড আলু ১৪ টাকা ২০ পয়সা এবং গ্রানুলা ১৩ টাকা ২০ পয়সা দরে কৃষকদের কাছ থেকে কিনে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। এতে বাজারে আলুর দাম আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে কৃষকরাও লাভের মুখ দেখছেন। এবার আলুর মৌসুমে বিএডিসি পঞ্চগড় অফিস থেকে সরকার নির্ধারিত সুলভমূল্যে রপ্তানিযোগ্য আলু চাষাবাদের জন্য ৮ জন চাষিকে ৩৫ মেট্রিক টন আলু বীজ দেওয়া হয়। এছাড়া বীজ, সার, কীটনাশক কেনার জন্য রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ পান চাষিরা। তাদের ৫০ একর জমি থেকে আলু উত্পাদন হয়েছে ৩৫০ মেট্রিক টন। ঐ চাষিদের উত্পাদিত আলুর বাছাইকৃত একটি অংশ বীজের জন্য কিনে নিচ্ছে বিএডিসি আর বড় আকারের আলুগুলো রপ্তানি করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, গ্রানুলা, টিপিএসসহ ২০টির বেশি জাতের আলুর চাষাবাদ হয়েছে। এবার আলুর মোট উত্পাদন হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন।

আলু চাষি আব্দুল মতিন জানান, আমাদের উত্পাদিত আলু দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে যাচ্ছে এটা আমাদের জন্য গর্বের। বিদেশে আলু যাওয়ায় আলু বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। না হলে দাম আরো কমে যেত। তবে দামটা আরেকটু বেশি হলে আমাদের উপকার হতো। আলু চাষে চাষিরা আরো আগ্রহী হতো।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার আলু চাষি বায়েজীদ বোস্তামী জানান, চলতি মৌসুমে ২৩ একর জমিতে ডায়মন্ডসহ কয়েকটি জাতের আলুর চাষ করেছি। রপ্তানির জন্য আমার উত্পাদিত আলুর মধ্যে ৩ মেট্রিক টন আলু দিয়েছি। বাকী আলু বিএডিসি ভিত্তিবীজ, মান ঘোষিত বীজ হিসেবে কিনে নিবে। অবশিষ্ট কিছু আলু সংরক্ষণ করব। তারপর যা থাকবে বাজারে বিক্রি করে দেব।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বরুন অ্যাাগ্রো লিমিটেডের মান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের আলুর বাজার রয়েছে। বর্তমানে আমরা মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কায় রপ্তানি করছি। কেবল ভালো মানের বড় আকারের আলু রপ্তানিযোগ্য। আগামী বছর রপ্তানির পরিমাণ আরো অনেক বাড়বে।

পঞ্চগড় জেলা বিএডিসির উপপরিচালক (টিসি) আব্দুল হাই সজিব জানান, আমাদের দেশে আলুর চাহিদা ৬৫ থেকে ৭০ লাখ মেট্রিক টন। এবার ১ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি উত্পাদন হয়েছে। দেশের চাহিদা পূরণ করে বাকি আলু রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সানসাইন নামে রপ্তানিযোগ্য নতুন জাতের উচ্চ ফলনশীল আলুর চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এই আলু ৬৫ দিনেই উত্তোলন করা যায়। প্রতি হেক্টরে আলুর ফলন হয় ৪১ মেট্রিক টন পর্যন্ত। আগামী বছর এই আলু ব্যাপক হারে চাষ হবে।