জনসংখ্যাই সম্পদ, প্রয়োজন পরিচর্যার

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২২:১৮

বাংলাদেশের আয়তন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাস করে ১ হাজার ১১৬ জন যা পৃথিবীতে সর্বোচ্চ, কিছু দ্বীপদেশ ও নগররাষ্ট্র বাদে। এখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, বাংলাদেশের আয়তনের তুলনায়  জনসংখ্যার পরিমাণ অনেক বেশি। পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে যাদের জনসংখ্যা আয়তনের তুলনায় অনেক কম। এমনকি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা বর্তমানে মাইনাসে চলে গেছে। যা তাদের জন্য ভবিষ্যতে বড় রকমের হুমকি, যদি জনসংখ্যা এভাবে কমতে থাকে। এমনো দেখা যায়, কিছু দেশ তাদের জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য দম্পতিকে পুরস্কার দিচ্ছে, তারপরও দিন শেষে তাদের জনসংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেখানে জনসংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ তাগিদ দিচ্ছে জনসংখ্যা কমানোর। জনসংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাচ্ছে দারিদ্র্য এবং তার সঙ্গে জন্ম নেওয়া নানা অপরাধ। আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে পরিবারগুলোতেও দেখা যাচ্ছে হতাশা। এত বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা অনেক ক্ষেত্রে হচ্ছে বিঘ্নিত। দেশের অধিক জনসংখ্যা তাদের উন্নত শিক্ষা ও জীবনযাপন থেকে হচ্ছে বঞ্চিত। জনসংখ্যা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আমরা ধরেই নিয়েছি জনসংখ্যা সমস্যা।

এমন মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে সঠিক পরিকল্পনা এবং পরিচর্যার প্রয়োজন। যার মাধ্যমে আমাদের জনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে জনসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন কিছু উদ্যোগ এবং পরিবর্তন। সর্বপ্রথম যে জিনিসটার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন তা হচ্ছে শিক্ষাকাঠামো। আমরা বর্তমানে পাঠ্যপুস্তক পড়া এবং মুখস্থ করার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি পরীক্ষায় ভালো ফল পাবার আশায়। যার ফলে কেবল সরকারি চাকরি জুটছে, আর না হলে নেমে আসছে হতাশা। তাই বারবার মনে হয় যদি হাতেকলমে শিক্ষা এবং প্রাকটিক্যাল শিক্ষা দেওয়া হতো তাহলে হয়তো পালটে যেত পুরো দেশটা। প্রাকটিক্যাল শিক্ষা একেবারে দেওয়া হয় না তা নয়, তবে যেটুকু দেওয়া হয় তা অতি সামান্য। তাই প্রাকটিক্যাল শিক্ষার জন্য গড়ে তোলা দরকার বেশি বেশি টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ বা কারিগরি স্কুল-কলেজ। ইতিমধ্যে বেশ কিছু টেকনিক্যাল বা কারিগরি স্কুল-কলেজ গড়ে তোলা হয়েছে যা অতি সামান্য। তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তারা তাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও। তাদের এই পথ সহজ করার জন্য প্রয়োজন আরো বেশি বেশি সরকারি অনুদান এবং উপযুক্ত শিক্ষক প্রদান করা। কারিগরি শিক্ষা এবং টেকনিক্যাল শিক্ষার মাধ্যমে যে কোনো বিষয়ে হাতেকলমে যদি সরাসরি শিক্ষা প্রদান করা হয় তাহলে আমরা পেতে পারি দক্ষ জনশক্তি এবং বিভিন্ন বিষয়ে স্পেশালিস্ট। যারা হতে পারে আমাদের দেশের সম্পদ। আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাব তারা কেবল পাঠ্যবইভিত্তিক পড়াশোনায় দক্ষ নয়, তারা সমানতালে কারিগরি শিক্ষাতেও দক্ষ। যার কারণে অন্য দেশ থেকে তাদের স্পেশালিস্ট আনা দরকার পড়ে না। তারা নিজেদের যেমন সমৃদ্ধ করেছে তেমনিভাবে সমৃদ্ধ করেছে দেশের অর্থনীতিকে। কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলাই কেবল নয়, আমাদের মূল উদ্দেশ্য দক্ষ জনশক্তি যাদের দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আমাদের দেশের অর্থনীতির অনেকটা পূরণ হয় রেমিট্যান্সের মাধ্যমে। তবে আমাদের দেশে যে পরিমাণ জনবল বিদেশে রয়েছে সে তুলনায় খুব সামান্য রেমিট্যান্স আমরা পাই। এর সবচেয়ে বড় কারণ দক্ষ জনশক্তি আমরা পাঠাতে পারছি না। যদি দক্ষ জনশক্তি বাড়ানো যায় এবং তাদের যথাযথভাবে উন্নত বিশ্বে পাঠানো যায় তাহলে একদিকে যেমন আমাদের দেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যার সমাধান পাওয়া যাবে, অপরদিকে বাড়তি রেমিট্যান্সের কারণে দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে।

n লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়