আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা আমবাগানে (যা বর্তমানে মুজিবনগর) মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। এর আগে ১০ এপ্রিল ১৯৭১-এ মন্ত্রীসভা গঠিত হয়। অস্থায়ী সরকারের সচিবালয় স্থাপন করা হয় কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে এবং রাজধানী করা হয় মুজিবনগর। ১৭ এপ্রিল মন্ত্রীসভা শপথ গ্রহণের আগে গণপরিষদের স্পিকার অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং পরে অস্থায়ী সরকারের ছয় সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রীসভা ঘোষণা করে মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম হন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুক্তিবাহিনী সংগঠন ও সমন্বয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় এবং ভারত সরকার ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক রক্ষায় মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মুজিবনগর সরকার কার্যকর ছিল।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে থাকে। ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে ডাক বিভাগ ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে, যার নকশাকার সুধাংশু শেখর ভদ্র এবং মুদ্রাকর দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড, গাজীপুর। ডাকটিকিট এবং উদ্বোধনী খামের নকশায় মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম কর্তৃক গার্ড অব অনার গ্রহণের ছবি স্থান পায়। এর আগে স্বাধীনতার ২০তম বার্ষিক উপলক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত ৫টি ডাকটিকিটের একটিতে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের ছবি স্থান পায়, যার ডিজাইনার মাহবুব আকন্দ এবং মুদ্রাকর দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড, গাজীপুর। আজ মুজিবনগর সরকারের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপিত হবে এবং এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে।
