কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ অপারেশন থিয়েটার থাকলেও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ না থাকায় কয়েক বছর ধরে সেটি পড়ে আছে। চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি কোনো কাজে আসছে না।
হাসপাতালটিতে রয়েছে ডিজিটাল এক্সরে মেশিন কিন্তু নেই রেডিওলজিস্ট। ফলে তালাবদ্ধ রুমে অব্যবহূত অবস্থায় মেশিনটি পড়ে আছে। প্যাথলজি বিভাগে নেই টেকনোলজিস্ট। ফলে রক্ত, মলমূত্র পরীক্ষা করতে রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় জটিল ও গুরুতর রোগীদের স্থানান্তরে বাড়তি অর্থসহ চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আছে শিশু, মেডিসিন, গাইনি ও সার্জারিসহ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পদ কিন্তু নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক। ফলে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। এভাবেই চলছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের চিকিত্সার একমাত্র ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর চরপুক্ষিয়া গ্রামের কুলছুম, করগাঁও লাহৌন গ্রামের আয়েশা, মসূয়া কাজীরচর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনসহ আরো অনেকের সঙ্গে কথা হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ কোনো ডাক্তার না থাকায় তাদের জেলা সদরে যেতে হয়। বিশেষ করে প্রসূতিদের জটিল প্রসব ও সিজারিয়ান সেবা নিতে যেতে হয় ৩০ কিলোমিটার দূরে কিশোরগঞ্জে, না হয় বেসরকারি ক্লিনিকে। করোনার এই সংকটকালে বাড়তি অর্থসহ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে গরিব অসহায় রোগীদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি জুনিয়ার কনসালটেন্ট পদ দীর্ঘদিন থেকেই শূন্য রয়েছে। এছাড়া টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন সহায়ক জনশক্তির ৫৬টি পদ শূন্য আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুস সালেহীন বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসহ শূন্যপদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে আমাদের যা রয়েছে সেটুকু দিয়েই সাধ্যমত চিকিত্সাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।
