রং ও সুতার দাম বাড়ায় সংকটে বেলকুচির তাঁতিরা

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২১:৩০

সাইদুর রহমান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

সুতা ও রংসহ রাসায়নিকের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচিসহ আশপাশের তাঁত পল্লির তাঁতিরা। বন্ধের উপক্রম তাদের তাঁত বোনার কাজ।

তাঁতিরা বলছেন, সুতার দাম তিন মাস আগে যা ছিল বর্তমানে তা দ্বিগুণের বেশি। অপরদিকে, উত্পাদিত কাপড়ের দাম বাড়ছে না। এতে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন তাঁতিরা। স্থানীয় সুতা মিলের মালিকরা দফায় দফায় সুতার দাম বাড়িয়ে চলছেন বলে অভিযোগ তাদের।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর, এনায়েতপুর, কামারখন্দ, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও উল্লাপাড়া উপজেলা এলাকায় ৫ লক্ষাধিক বিদ্যুত্ চালিত ও হস্তচালিত তাঁত রয়েছে। এসব তাঁতে শাড়ি, লুঙ্গি উত্পাদনের জন্য কাজ করছেন প্রায় ১২ লাখ তাঁতশ্রমিক। ইতিমধ্যে অনেক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে, বিপুল সংখ্যক তাঁতশ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

গোপালপুর গ্রামের রুহুল আমিন, খুকনী গ্রামের অনিক আহমেদ ও সোহাগপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামসহ কয়েক জন তাঁত মালিক বলেন, রং, সুতা ও তাঁত সরঞ্জামের দাম বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হবে।

তাঁতিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন মাস আগে যে কাপড়টি তৈরি করতে ৪০০ টাকা খরচ পড়ত, সেই কাপড়টি এখন তৈরিতে খরচ পড়ছে ৮০০ টাকা। কিন্তু তাদের উত্পাদিত কাপড় সে অনুপাতে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে না।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক একরামুল হক রিজভী বলেন, রং এবং সুতার বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকারের একটি মনিটরিং টিম গঠন করা দরকার। এর পাশাপাশি এই শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিলে তাঁত শিল্পের হারানো ঐতিহ্যে ফিরে আসবে।

জাতীয় তাঁতী সমিতির সভাপতি মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড গঠনের উদ্দেশ্য ছিল তাঁতিদের কল্যাণ করা বা তাঁতিদের সমস্যার সমাধান করা, কিন্তু তাদের কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনিসুর রহমান জানান, তাঁত শিল্পের সমস্যা সমাধানে কাজ তিনি করছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।