মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৯

সৃষ্টিকুলের মাঝে মানুষই একমাত্র জীব যারা স্বপ্ন দেখতে পারে এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারে। এমন কোনো মানুষ নেই যারা স্বপ্ন দেখে না। এক বক্তৃতায় একজন বলেছিলেন, ‘স্বপ্নই তো মানুষের জীবন। জীবনের প্রথম দিন থেকে প্রথম বছর থেকে প্রথম মাস থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেকোনো মানুষ স্বপ্ন দেখে।’ মরার অপেক্ষায় থাকা বৃদ্ধ লোকটিও স্বপ্ন দেখে আরো কিছুদিন বেঁচে থাকার। জীবন নিয়ে আমাদের স্বপ্নই আমাদের পথ চলতে দিকনির্দেশনা দেয়। কিন্তু আমরা আমাদের স্বপ্নের সঠিক পরিচর্যা করি না। বৃক্ষের বড় হওয়ার জন্য যেমন আলো, বাতাস, পানি আর পরিচর্যার প্রয়োজন তেমনি স্বপ্নকে সত্যি করতে সেই অনুযায়ী কাজ করা প্রয়োজন।

বর্তমানে তরুণরা স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে আর যেসব স্বপ্ন তারা দেখে তা পূরণে চেষ্টার ঘাটতি আছে। তারা স্বপ্নগুলোকে বিকশিত হতে না দিয়েই খুব অল্পতে হতাশ হয়ে পড়ে। যার প্রমাণ ইদানীংকালে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া। আত্মহত্যা বর্তমানে সংক্রামক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। গত দশমাসে শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের এমন পরিণতি সামগ্রিকভাবে পুরো দেশ ও দেশের মানুষের জন্য হুমকিস্বরূপ। সাম্প্রতিক ভিকারুননিসা নূন স্কুলের অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যা পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। যে সময়টা নিজেকে গঠন করার সে সময়টাতে নিজেদের নিঃশেষ করে দিচ্ছে তারা। অথচ আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়।

আমাদের জীবনের সব স্বপ্নই হয়তো পূরণ হবে না। কিছু স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটবে। অপ্রাপ্তির কষাঘাতে জীবন থেকে পালাতে ইচ্ছে করবে খুব। সেই সময়টাতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। হতাশাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। আত্মবিশ্বাস আর ধৈর্যধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। পৃথিবীতে যারাই সফল হয়েছেন তাদের সকলের জীবনের ইতিহাসই কণ্টকাপূর্ণ। কিন্তু তারা থেমে যাননি বলেই অন্যের কাছে অনুকরণীয় হতে পেরেছেন। আসলে জীবনে অনেক সুযোগ আসে। স্বপ্ন আর সুযোগের সমন্বয় করে জীবনে বহুদূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। হতাশার বীজগুলোতে আগুন জ্বেলে আমরা স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাই অদম্যগতিতে। মনে রাখতে হবে, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় এবং অবশ্যই মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।

n লেখক :শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়