তিন জাহাজ পরিচালনায় অপারেটর খোঁজা হচ্ছে

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৮

তিন বছর অলস পড়ে থাকার পর চট্টগ্রাম বন্দর তার কেনা জাহাজ তিনটি পুনরায় প্রাইভেট অপারেটরের মাধ্যমে চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে চলাচলের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালের শেষের দিকে তিনটি পুরাতন কনটেইনারবাহী জাহাজ ক্রয় করে। প্রায় ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় করা জাহাজ তিনটির প্রতিটি ১২০-১৪০ কনটেইনার পরিবহনে সক্ষম। প্রায় দুই বছর জাহাজ তিনটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করে বিরাট অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে ঢাকামুখী কনটেইনার পরিবহনের জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পানগাঁও টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। সে সময় ঐ রুটে চলাচলের জন্য সরকার ৪৭টি জাহাজের অনুমতিও দেয়। কিন্তু কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। ২০১০ সালে টার্মিনাল নির্মাণ শেষ হলেও দুই বছর ধরে টার্মিনাল অলস বসে থাকে।

কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর পৌঁছার পর আবার অন্য জাহাজযোগে পানগাঁও টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়। পানগাঁও থেকে আবার ঢাকা কিংবা ঢাকার বাইরে সড়কপথে নিজস্ব গন্তব্যে পৌঁছানো কতটুকু আর্থিক সাশ্রয়ী, তা নিয়ে আমদানিকারকদের মধ্যে সংশয় দেখা দেয়। ফলে আমদানিকারকগণও আগ্রহ দেখায়নি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আমদানিকারকদের উদ্বুদ্ধকরণ কিংবা মার্কেটিংয়ের উদ্যোগ দেখা যায়নি। পানগাঁও টার্মিনাল দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে তিনটি জাহাজ ক্রয় করে এবং কনটেইনার পরিবহন শুরু করে।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বলা হয়, আমদানিকারক এবং জাহাজ মালিকদের উদ্বুদ্ধ করতে জাহাজ ক্রয় করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দুই বছর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালানোর পর বিরাট অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি শিল্প গ্রুপকে প্রতিটি জাহাজ মাসিক ১৪ লাখ টাকায় ভাড়া দেয়। কিন্তু ঐ প্রতিষ্ঠানও লোকসানের কারণে দুই বছর আট মাস চালানোর পর ২০১৭ সালের শেষ দিকে বন্দরকে জাহাজ তিনটি ফেরত দেয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ বকেয়া ভাড়ার টাকা ও জাহাজের কন্ডিশন পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ছয় মাস জাহাজ তিনটি গ্রহণ করেনি। পরবর্তী সময়ে উভয়ের সমঝোতার ভিত্তিতে ১ কোটি ২ লাখ টাকার বিনিময়ে জাহাজ গ্রহণ করা হয়। ২০১৭ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত জাহাজ তিনটি বন্দরে অলস পড়ে আছে। ইতিমধ্যে জাহাজ তিনটি পুনরায় ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সূত্রে জানা যায়। প্রতিনিয়ত লোকসানের মুখে থাকা জাহাজ তিনটি বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বন্দরের আইন উপদেষ্টা প্রতিযোগিতা মূল্যে বিক্রির সুপারিশ করে। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে। তাদের পক্ষ থেকে জাহাজ তিনটি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মাধ্যমে পরিচালনা সম্ভব বলে মতামত প্রদান করে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকেও এ ব্যাপারে পত্র দেওয়া হয়। অবশ্য তাদের পক্ষ থেকেও তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ তিনটি পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগে কিংবা ভাড়ায় প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, জাহাজ তিনটি নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে পুনরায় চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে জাহাজ তিনটি বেসরকারি অপারেটর তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করবে এবং বন্দরকে মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া প্রদান করবে।