মেয়েটির বয়স মাত্র ১৪ বছর। আর ছেলেটির বয়স ২৮ বছর। পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু ২৭ দিনের মধ্যেই শীর্ণকায় দেহের মেয়েটি, সুঠাম দেহের ছেলেটিকে কৌশলে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায় পুলিশের কাছে এবং আদালতে স্বীকার করেছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বিষহরা গ্রামের এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় আদালত মেয়েটিকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী বলছে, নিহত হারুনুর রশিদ ঐ গ্রামের বয়জুল মণ্ডলের ছেলে। আর মেয়েটি একই উপজেলার ভীমনগর পালশা গ্রামের মেয়ে। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত মেয়েটি। গত ১৯ মার্চ হারুনের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়। বয়স কম বলে হারুনের গ্রামে ঐ কিশোরীর খালার বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় একজন কাজী বিয়ে পড়ান।
মোহনপুর থানার ওসি তৌহিদুর রহমান বলেন, স্বামীর হাতে যৌননিপীড়নের শিকার হয়েই মেয়েটি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। মেয়েটির চেয়ে ছেলের শারীরিক গঠন দ্বিগুণ। তার পরও সে স্বামীকে হত্যা করতে পেরেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। বিকালে আদালতে তোলা হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। এর আগে নিহত হারুনের বাবা মেয়েটির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন বলেও জানান ওসি।
নিহত হারুনের পাশের ঘরেই থাকতো হারুনের বোন সুমাইয়া খাতুন। রাতে খুনের ঘটনার কিছুই টের পায়নি সে। সুমাইয়ার ঘরের পাশের ঘরে থাকেন তার বাবা-মা। তারাও কিছু বুঝতে পারেননি। রাজশাহী কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জানান, রাত ১টার দিকে তার ভাইকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাত ৩টা পর্যন্ত হারুনের স্ত্রী লাশের সঙ্গেই ছিল। ৩টার দিকে সে শাশুড়ির সঙ্গে সেহরি রান্না করতে আসে। রান্না শেষ হলে সে একাই খেতে বসে। তখন তার শাশুড়ি ছেলেকে ডাকতে বলেন। কিন্তু মেয়েটি যায়নি। তখন হারুনের মা তাকে ডাকতে যান। গিয়ে দেখেন—গরমের মধ্যে হারুনের শরীর কম্বল দিয়ে ঢাকা। কম্বল সরিয়ে দেখেন, হারুনের কোনো সাড়াশব্দ নেই। এ সময় তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তখন চিকিত্সক জানান, অনেক আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এরপর লাশ বাড়ি নেওয়া হয়।
সুমাইয়া জানান, রাতে চিকিত্সক মৃত্যুর কারণ বুঝতে পারেননি। চিকিত্সক বলেছিলেন, হারুন স্ট্রোক করেছে। কিন্তু বাড়ি আসার পর লাশের গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন দেখা যায়। এ সময় তাঁর স্ত্রী বলে, হারুন গলায় ফাঁস দিয়েছিল। কিন্তু এত বড় দেহ সে একা কীভাবে নামাল, কাউকে ডাকেনি কেন—এসব প্রশ্নের মুখে সে স্বীকার করে যে, গলায় পাটের দড়ি পেঁচিয়ে সে হত্যা করেছে।
এই বিয়েটি পড়িয়েছিলেন মোহনপুরের জাহানাবাদ ইউনিয়নের সহকারী কাজী আবুল হোসেন শেখ। তিনি বিষহরা উত্তরপাড়া জামে মসজিদের ঈমামও। মোবাইলে আবুল হোসেন প্রামাণিক বলেন, তিনি এই বিয়ে পড়াতে চাননি। এক ভাতিজা এসে পীড়াপীড়ি করায় শুধু কালেমা পড়িয়েছেন। মেয়ের বয়স কম হওয়ায় রেজিস্ট্রি করেননি।
