প্রথম বর্ষ থেকে সিট বরাদ্দ চাই

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী আসে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। তাদের সামর্থ্য থাকে না বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করার। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার সিস্টেম, নন-কলেজিয়েট হওয়ার ভীতি, উপস্থিতির হারের ওপর নম্বর ইত্যাদি এবং পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য একজন শিক্ষার্থীর প্রথম বর্ষ থেকেই সিট প্রয়োজন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, হল কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং উদাসীনতায় প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ এমনকি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা দুঃসহ যন্ত্রণায় দিন গুজরান করে। তাদের ঠাঁই হয় হলের গণরুমে—৪ জনের রুমে ১৫ জনকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। অনেকেই থাকে হলের ইনডোর গেমসরুম, হলের বারান্দা, পেপাররুমে। মশার আক্রমণ, ছারপোকার নির্যাতন, শীতের প্রকোপ, ঝড়-বৃষ্টির ঝাপটা সব মিলিয়ে ক্যামপাসজীবন অসহনীয় হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের কাছে। তার ওপর রয়েছে নোংরা রাজনীতি—ব্যক্তিস্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা কৌশলে কেড়ে নেওয়া হয়। প্রতিটা হলের প্রত্যেক শিক্ষার্থী বিনামূল্যে লব্ধ কামলায় পরিণত হয়। একটি সিটের জন্য দু-তিনটি বছর ঘুরঘুর করতে হয় বড় ভাইদের পিছনে। হল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ উত্থাপন করলে ওঁরা নিজেদের অক্ষমতা প্রকাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল­াহ মুসলিম হলের বারান্দায়, গেমসরুমে, পেপাররুমে, মসজিদের আশেপাশে, রিডিংরুমে উদ্বাস্তুর মতো রাত্রি যাপন করে তিন শতাধিক নিয়মিত শিক্ষার্থী। অথচ হলে সিঙ্গেল রুম নিয়ে অবস্থান করছে অর্ধ শতাধিক অছাত্র। রাজনীতির সোনার কাঠির ছোঁয়ায় তারা এস এম হলের স্থায়ী সদস্য হয়ে গেছে। এরকম অনেকে আছেন যাঁদের মাস্টার্স সম্পন্ন হয়েছে আজ থেকে ৫/৭ বছর আগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই হীন ব্যবস্থাপনা বিলুপ্তির জন্য সংশ্লি­ষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মো. মাহবুবুর রহমান সাজিদ

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়