আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টি
বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় এ বছর আমের উত্পাদন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। তারা বলছেন, বিগত দুই-তিন বছরের তুলনায় এবার বাগানে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মুকুল এসেছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে আকস্মিক ঝড় এবং শিলাবৃষ্টির কারণে অর্ধেকের বেশি পরিমাণ আমের গুটি ঝরে পড়েছে। এর ফলে উত্কণ্ঠায় রয়েছেন আমবাগানের মালিকরা। বাঘা উপজেলার আমোদপুর গ্রামের কৃষক মহাসিন আলী, বারঘাদিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও চারঘাট উপজেলার মুংলী গ্রামের কৃষক মাইনুল ইসলাম জানান, এ বছর যে কোনো সময়ের চেয়ে গাছে অধিক পরিমাণ মুকুল এসেছিল। আমের গুটি যখন এক থেকে দেড় ইঞ্চি সাইজে দাঁড়াল ঠিক সে সময় অর্থাত্ গত সপ্তাহে আকস্মিক কালবৈশাখির হানা এবং শিলাবৃষ্টিতে অর্ধেকের বেশি গুটি ঝরে পড়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আমচাষিরা দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, এক বছর ভালো আম হলে অন্য বছর এমনি কম হয়। এদিক থেকে গত বছর আমের উত্পাদন কম হওয়ায় এবার প্রচুর পরিমাণ আম ধরেছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে আকস্মিক ঝড় এবং শিলাবৃষ্টির কারণে কৃষকরা অনেকটাই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার মতে, আমের বাজার মূল্য ভালো থাকলে এ ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। উপজেলা কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, বাঘায় আমবাগান রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। খাদ্যশস্যের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে এখানে আমই প্রধান। প্রতি বছর বাঘা উপজেলার কৃষকরা শুধু আম বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন ৬ থেকে ৭০০ কোটি টাকা। অনুরূপ অর্থ উপার্জন করেন পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলার আমচাষিরা।
