করোনা রোগীদের চিকিত্সা নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:১৭

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল—এই এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ। আর আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় দেড় হাজার। রোগীর আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, এঁদের মধ্যে অনেকেই যথাযথ চিকিত্সার অভাবেই মারা গেছেন। সারা দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চিকিত্সাধীন রোগীর সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। দিন দিন এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অন্তত পাঁচ শতাংশ জটিল রোগীর জন্য আইসিইউ শয্যার প্রয়োজন হয়। এই হিসেবে চিকিত্সাধীন করোনা রোগীর জন্য কমপক্ষে পাঁচ হাজার আইসিইউ শয্যা সুবিধা থাকার কথা। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রেসব্রিফিং থেকে জানা যায় সারা দেশে মাত্র ৮২৫টি আইসিইউ শয্যার কথা। গত এক বছরে করোনা রোগীদের জরুরি চিকিত্সাব্যবস্থা লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দ্রুত অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে ভীষণ শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। তখন অক্সিজেন দেওয়ার জন্য রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে আনতে হচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালে প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে যথাসময়ে অক্সিজেন না পাওয়ায় রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে। তখনই রোগীকে আইসিইউতে নেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, কোনো রোগী মারা গেলেই কেবল আরেকজন মুমূর্ষু রোগীকে আইসিইউ শয্যায় নেওয়া হচ্ছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইসিইউ শয্যা নিশ্চিত করা যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কারণ এই বিশেষ ধরনের শয্যায় চিকিত্সা কার্যক্রম চালানোর মতো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল বর্তমানে নেই। কাজেই সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নিতে হবে। এর জন্য অধিক সংক্রমিত প্রতিটি এলাকায় অস্থায়ী ভিত্তিতে টেস্টিং, আইসোলেশন ও অক্সিজেন সেন্টার খোলা যেতে পারে। তাহলে অনেক রোগীকেই এই সেন্টারে এনে অক্সিজেন দেওয়া হলে তাঁদের আর হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। আশা করি, সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভেবে দেখবে। 

বিপ্লব বিশ্বাস

গোয়ালচামট, ফরিদপুর