ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশের কর কাঠামোকে আরো সরল ও স্বচ্ছ করার আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএবি)। আসছে বাজেটে করপোরেট কর হার কমানোসহ উেস কর কর্তন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছে আইসিএবি। ‘পলিসি পেপার অন ডিরেক্ট অ্যান্ড ইনডিরেক্ট ট্যাক্স’ শিরোনামে ভার্চুয়াল সংলাপে এই আহ্বান জানানো হয়। ভার্চুয়াল সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ-উল হাসান খসরু এফসিএ। সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো অংশ নেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (ট্যাক্স পলিসি) মো. আলমগীর হোসেন, সদস্য (ভ্যাট পলিসি) মাসুদ সাদিক, সদস্য (কাস্টমস :অডিট, মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) খন্দকার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান এবং সদস্য (কাস্টমস পলিসি অ্যান্ড আইসিটি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া।
আলোচনায় আইসিএবির পক্ষ থেকে বলা হয়, কর হার হ্রাস করা হলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণও বৃদ্ধি পাবে। কারণ বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কর কাঠামো বড় ভূমিকা রাখে। বর্তমান বিশ্বে বাজার ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এজন্য সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এনবিআরকে এগুতে হবে। এনবিআরের বার্ষিক প্রতিবেদনও তাই সময়মতো প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করার আহ্বান জানানো হয়। হররানি মুক্ত রাজস্ব প্রদানে প্রত্যেক করদাতাকে অনলাইন ব্যবস্থায় নিয়ে আসতে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, হিসাব প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার মাধ্যমে জবাবহিদিতা বৃদ্ধি পায়। ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) চালু হওয়ার ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ-উল হাসান খসরু এফসিএ বলেন, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে করকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উন্নত সরকারিসেবা, অসমতা হ্রাস এবং জবাবদিহিতা বাড়াতে উন্নত করকাঠামো মূল ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, আমাদের মতো অন্য অর্থনীতির দেশগুলোতে করপোরেট কর হার অনেক কম। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এই কর পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। তবে দেশের কর ব্যবস্থাপনা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। ফলে সরকারের আয় বাড়ছে, বৈদেশিক সহায়তা নির্ভরতা কমছে। এর পরেও জিডিপির হিসাবে বাংলাদেশের কর আহরণ অনেক কম। বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
