কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে জোর দেওয়ার আহ্বান

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:২৫

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা ও করোনা ভাইরাস মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা। গতকাল শনিবার ‘শিল্পায়ন :শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ শিরোনামে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত এক ওয়েব সেমিনারে অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান তারা। অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় এতে আলোচক হিসেবে অংশ নেন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিক-উজ জামান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান। অধ্যাপক আবুল বারকাতের সদ্য প্রকাশিত ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র :ভাইরাসের মহাবিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ গবেষণাগ্রন্থটির বিষয়বস্তু ঘিরে ১৩ সিরিজের আলোচনাসভার এই ষষ্ঠ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ পরিস্থিতি এড়াতে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে আমাদের ফিরে যেতে হবে। স্বাধীনতার আগে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়নের বৈষম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ঐ সময়ের মিলমালিকেরা ছিলেন সবাই পশ্চিম পাকিস্তানের। আমাদের পাটচাষিরা দাম পেতেন কম। এই শোষণ ও সম্পদ বণ্টনে বৈষম্য আবুল বারকাতের বইয়ে উল্লেখ আছে। অধ্যাপক ড. শফিক-উজ জামান বলেন, ‘আগে পাট ছিল আমাদের শিল্পায়নের মাধ্যম, কিন্তু আশির দশকের শেষ দিক থেকে পোশাকশিল্প হয়ে গেল আমাদের শিল্পায়নের মূল মাধ্যম। এটা ঠিক যে, এই খাত নারীর জন্য ব্যাপক আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করেছে। কিন্তু আজ নদীদূষণের পেছনে শিল্পকারখানা ও তার বর্জ্য ভূমিকা রাখছে, মিঠাপানি ও উর্বর ভূমি ধ্বংস হচ্ছে প্লাস্টিকে।’ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে ‘প্রথাবিরোধী অর্থনীতিবিদ’ উল্লেখ করে মোয়াজ্জেম হাসেন খান বলেন, এ বইয়ে মুক্তিযোদ্ধা বারকাত তার নিজস্ব ভূমি উত্থিত চিন্তাভাবনা গ্রন্থিত করেছেন। তিনি দেশের বর্তমান শিল্পায়নকে ‘বিপর্যয়কর শিল্পায়ন’ বলেছেন এবং ‘কল্যাণ শিল্পায়ন’ গঠনের কথা বলেছেন। এর জন্য ১৫টি সুপারিশ করেছেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম সুপারিশ হলো মানবায়ন, যা মানুষকে তার বাস্তু থেকে কখনো উত্খাত করবে না।