মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিংগাইর সদরে ব্যাপক হারে চোরের উপদ্রপ বেড়ে গেছে। প্রায় প্রতি দিনই কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছে। আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়ছে মানুষ। গত ১২ এপ্রিল সকালে বালিকা বিদ্যালয়ের পাশ থেকে গোবিন্দল গ্রামের কামাল হোসেনের বাইসাইকেল চুরি হয়। এর আগের দিন দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পশ্চিম পাশে একটি বিরিয়ানি হাউজের তালা ভেঙে চুরির প্রস্তুতিকালে জনসাধারণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় চোর ।
দোকানের মালিক জানান, এ ঘটনার কয়েক দিন আগে তার ছেলের বাইসাইকেল এবং দোকান থেকে পাঁচটি গ্যাস সিলিন্ডার চুরি হয়। এছাড়া একই দিনে থানার দক্ষিণ পাশে হাইস্কুল মাঠ থেকে খেলেশ্বর গ্রামের এক নারীর মোবাইল ফোনসেট ছিনতাই হয়। ৩ এপ্রিল গরুর হাট থেকে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরিকালে চোর ধরা পড়ে । তবে এর আগে তার চারটি ব্যাটারি চুরি হয় বলে জানান অটোরিকশা ভুক্তভোগী চালক। ১ এপ্রিল বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে ওষুধের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। সি ক্যামেরায় দেখা যায়, রাত ৩.১৮ মিনিটে দোকানের তালা ভেঙে পিকআপে করে ওষুধপত্র চুরি করার দৃশ্য। দোকানের মালিক জানান, ৬ লাখ টাকার ওষুধ চুরি হয়। থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত চোর ধরা পড়েনি এবং ওষুধ উদ্ধার হয়নি। ঐ দিনই রঙের বাজার থেকে অটোরিকশা চুরি হয়। অটোরিকশার মালিক জানান, চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে চালককে অজ্ঞান করে তার অটোরিকশাটি নিয়ে যায়। এছাড়া আজিমপুর মওলা দরবার শরিফের পাশে ওষুধের একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার দুই দিন আগে এলাকার এক ভাড়াটিয়ার বাসার তালা ভেঙে ঘর থেকে দুর্বৃত্তরা স্বর্ণালংকার চুরি করে । এছাড়া পূবালী ব্যাংকের সামনে থেকে অটোরিকশা এবং অপর একটি বাসা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চুরি হয়। চুরি হয় এক দিনমজুরের বাইসাইকেল। এছাড়া পৌরসভার পেছনে ফ্ল্যাট বাসার এক ভাড়াটিয়ার বাসার তালা কেটে চোর টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলে জানা যায়।
এদিকে অধিকাংশ মানুষের অভিমত সিংগাইরে মাদকের সংখ্যা বেড়ে গেছে বলেই গণহারে চুরি বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে নানা অপরাধ আর সামাজিক অবক্ষয়। থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন বলেন, চোর ধরার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ পর্যন্ত একটি চোরও ধরা পড়েনি এবং মালামাল উদ্ধার হয়নি বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
