মঞ্চে প্রথম প্রতিযোগিতায়ও প্রথম

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২১, ২১:০০

মো. রাকিবুল হাসান

 

নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই। শখের বসে এলাকার এক একাডেমিতে গান শেখার জন্য ভর্তি করে দেন মা। কয়েক দিন পরে সেখানেই নাচের ক্লাসে ভর্তি হই। মা চেয়েছিল গানই ভালোভাবে রপ্ত করি! সানজিদা আফরিনের গল্পটা শুরু হয় এভাবে।

বর্তমানে তিনি সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগে শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। নিজ এলাকার দোয়েল সাংস্কৃতিক একাডেমিতে নাচে তার হাতেখড়ি। শেখার পরে সেখানেই নাচের প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত হন। তিনি এখন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো সামাজিক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও নৃত্যশিল্পী হিসেবে অংশ নেন।

নিজের সম্পর্কে সানজিদা আফরিন বলেন, আমার পরিবারের সবাই সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব। আমারও সাংস্কৃতিক কাজগুলো ভালো লাগে। অভিনয়, উপস্থাপনা ও আবৃত্তি এসবের সঙ্গে সখ্যতা ছোটবেলা থেকেই। প্রতিযোগিতার প্রথম দিন আমার জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত। প্রথম স্টেজে উঠে প্রথম প্রতিযোগিতায় প্রথম হই আমি। এটাই বাকি জীবনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। টাঙ্গাইলের এই তরুণীর ঝুলিতে রয়েছে বেশকিছু পুরস্কার। ২০০৪ সালে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়েছিলেন। এছাড়া জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় পাঁচ বার প্রথম ও এক বার দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন তিনি। স্কুল-কলেজ জীবনেও রয়েছে অসংখ্য প্রাপ্তি ও পুরস্কার।

ক্যাম্পাস জীবন নিয়ে আফরিন বলেন, ক্যাম্পাস আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছি। সম্মান, ভালোবাসা সবই পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি আসলেই অনেক রঙিন হয়।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের পরে সানজিদা আফরিন শখের বসে ইউটিউব চ্যানেল খোলেন। নাচের ভিডিও বানিয়ে তা তুলে দেন ইউটিউব ও ফেসবুকে। সেখানে বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অচেনারাও তাকে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

সানজিদা আফরিনের ডাক নাম বৃষ্টি। এ নামেই ক্যাম্পাসে বেশি পরিচিত। তিনি দেশের একটি জাতীয় পত্রিকার পাঠক সংগঠনের গণবিশ্ববিদ্যালয় শাখার তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তাছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে নিজ বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজও করছেন। ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানের কাজই আমার ভবিষ্যত্ বলে দিবে। নাচ শেখার পরিধি আরো বাড়াতে চাই। নাচ আমার ভালোবাসা ও শক্তি। আমি যে সেক্টরেই কাজ করি না কেন, নাচ নিয়ে আমি আরো শিখতে চাই, জানতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।