চা-পাতার দরপতনে ক্ষুব্ধ দিনাজপুরের চাষিরা

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২১, ২১:০৫

মতিউর রহমান, দিনাজপুর

দিনাজপুরে চা-চাষিরা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, চা-কারখানার মালিকদের এক ধরনের সমঝোতার কারণে তারা চা-পাতার কাঙ্ক্ষিত দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের মতে, এর দূরবর্তী ফল হিসেবে এ অঞ্চলে চাষিরা চা-চাষে নিরুত্সাহিত হবে। ধানের জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে চা-এর আবাদ শুরু হয় গত ২০১৬ সালে। গত ৫ বছরে বীরগঞ্জসহ দিনাজপুর জেলায় প্রায় ৭০ একর জমিতে চায়ের বাগান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ চা-বোর্ডের নিবন্ধিত জমির পরিমাণ সাড়ে ৪৫ একর। আর নিবন্ধিত চা-চাষির সংখ্যা ৩৩ জন। ইতিমধ্যেই এসব চা-বাগান থেকে চায়ের উত্পাদন শুরু হয়েছে। কিন্তু চা-পাতার কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। দিনাজপুর জেলার প্রথম চা-চাষি জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ঝলঝলী গ্রামের নজরুল ইসলাম। ২০১৬ সালে এক একর জমিতে চায়ের আবাদ শুরু করেন তিনি এবং ২০১৭ সাল থেকেই তার বাগানে উত্পাদন শুরু হয়। তিনি জানান, প্রথম প্রথম বেশ ভালো দাম পেলেও এখন কারখানাগুলোর কাছে তারা জিম্মি।

চা-চাষি নজরুল ইসলাম জানালেন, ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর পর বাগান থেকে চা-পাতা সংগ্রহ করেন তিনি। কিন্তু চা-পাতা বিক্রির ক্ষেত্রে দামের বড় ধরনের হেরফেরের কারণে তারা এখন হতাশ। তিনি জানান, মার্চ মাসে তিনি চা-পাতা বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ২৯ টাকা দরে। এরপর এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি সেই একই পাতা বিক্রি করেন মাত্র ১৭ টাকা ৫০ পয়সা কেজি দরে। একমাসেই প্রতি কেজিতে দামের পার্থক্য সাড়ে ১১ টাকা। তিনি জানান, চা-কারখানাগুলো সমঝোতা করে চা-পাতা কেনায় এই দামের পার্থক্য। এই পরিস্থিতিতে অনেক উত্সাহ নিয়ে চা-চাষ শুরু হলেও এখন চাষিরা উত্সাহ হারিয়ে ফেলছে। একই কথা জানান, বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ী গ্রামের চা-চাষি মো. আক্তার, আকছাদ আলীসহ অন্যরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই অঞ্চলের ১৮টি কোম্পানি চা-পাতা কেনে। চা-ক্রেতা পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার পপুলার চা-কারখানার ক্যাশিয়ার হারুনর রশিদ মিঠু জানান, পাতার উত্পাদন বেশি হলে দাম কমে, আবার উত্পাদন কম হলে দাম বাড়ে। তিনি জানান, প্রতি মাসে তাদের কোম্পানিতে চায়ের পাতা লাগে সাড়ে ৪ লাখ কেজি। এর চেয়ে বেশি পাতা তারা প্রক্রিয়াজাত করতে পারেন না। তাই পাতার পরিমাণ বেশি হলে তারা দাম কমিয়ে দেন।

বাংলাদেশ চা-বোর্ডের নর্দার্ন বাংলাদেশ প্রকল্পের দিনাজপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছায়েদুল হক জানান, চা-কারখানাগুলো যাতে সিন্ডিকেট করে চা-পাতা কিনতে না পারে, সেজন্য পঞ্চগড় জেলা প্রশাসককে প্রধান করে একটি মূল্য নির্ধারণী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই মূল্য নির্ধারণী কমিটি চা-পাতার সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজি সাড়ে ১৬ টাকা। এর নিচে কেউ পাতা ক্রয় করলে তারা বিষয়টি দেখবেন। উল্লেখ্য, চা-ফ্যাক্টরি মালিকদের সিন্ডিকেট-এর প্রতিবাদে গত ২০১৯ সালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে চা-চাষিরা।