অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে পিঠে অক্সিজেনের সিলিন্ডার বেঁধে পেছনে মাকে বসিয়ে মোটর সাইকেলে করে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলো ছেলে। করোনা আক্রান্ত মাকে এভাবেই নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান জিয়াউল হাসান। গত শনিবার দুপুরে নলছিটি উপজেলার বরিশাল-পটুয়াখালী সড়ক থেকে পুলিশের এক সার্জেন্ট ঐ ছবি তুলে ফেসবুকে দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌহিদ টুটুল জানান, লকডাউনের কারণে বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কে চেকপোস্ট বসানো হলে দুপুর ২টা ৪৯ মিনিটে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে বরিশালের দিকে আসছিলেন। তার পিঠে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার বাঁধা ছিল এবং পেছনে এক নারী বসে অক্সিজেন নিচ্ছিলেন। তখন তাদের থামানো হয়নি। দ্রুত গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। জানা গেছে, অসুস্থ নারীর নাম রেহানা পারভীন (৪৮)। তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের দ্বিতীয় তলায় ভর্তি হয়েছেন। ঝালকাঠী জেলার নলছিটি উপজেলার বাসিন্দা এবং নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তিনি।
কয়েক দিন আগে তার শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়। তার ছেলে কৃষি ব্যাংকের ঝালকাঠী শাখার কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান গতকাল রবিবার জানান, নমুনা পরীক্ষার জন্য নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তারা নমুনা সংগ্রহ করে। কিন্তু এক সপ্তাহেও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। চিকিত্সকদের পরামর্শে তাকে বাড়িতেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে আসায় সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হয়। কিন্তু শনিবার বিকালে তার তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। কোনো অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় নিজের গায়ে গামছা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মাকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন রয়েছেন তার মা।
