জলবায়ু মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২১, ২৩:৫৭

জলবায়ুর সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে ঐকমত্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দুই দেশের এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এর আগে চীন সফররত যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক দূত জন কেরি ও চীনের জলবায়ুবিষয়ক প্রতিনিধি শি ঝেনহুয়ার মধ্যে সাংহাইয়ে বৈঠক হয়। এই তথ্য জানিয়েছেন চীনের পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

গত শনিবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিনিধিরা জানান, দুই দেশ কার্বন নির্গমন হ্রাসে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেবে। তারা বলেন, বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনের আগে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বের কঠোর অঙ্গীকার দরকার। বিবৃতিতে বলা হয়, জলবায়ুর সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরকে ও অন্য দেশগুলোকে সহযোগিতা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এটি গুরুত্বের সঙ্গে ও জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন। এতে আরো বলা হয়, প্যারিস চুক্তির আওতায় তাপমাত্রা সীমাবদ্ধ রাখতে দুই দেশই ২০২০ দশকে কার্বন নির্গমন কমানোর জন্য শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা অব্যাহত রাখবে। এছাড়া দেশ দুটি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে স্বল্প কার্বনভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহারের জন্য অর্থ প্রদানেও সম্মত হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের জ্যেষ্ঠ জলবায়ু উপদেষ্টা লি শুয়ো এই বিবৃতিকে ‘ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেছেন। জন কেরির এই সফর চীনে বাইডেন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের প্রথম কোনো সফর। মার্কিন ও চীনা কর্মকর্তারা গত মাসে আলাসকায় বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। সাংহাইয়ের এই সফরে যাওয়ার আগে জন কেরি সিএনএনকে বলেছিলেন, জলবায়ুর সংকট মোকাবিলায় চীনের সহযোগিতা পুরোপুরি জটিল বিষয়। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আমাদের বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে, কিন্তু জলবায়ুর সংকট সবার আগে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ সপ্তাহে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দেবেন। চীন জানিয়েছেন, তারাও এই সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করছেন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা জানা যায়নি। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছিলেন। বাইডেন ক্ষমতায় এসে আবার সেই চুক্তিতে ফেরেন। তিনি শিগিগর গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসারণের বিষয়ে একটি অঙ্গীকার করবেন।