বাড়ছে দক্ষ নারী উদ্যোক্তা

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৪৮

দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। স্মল এন্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (এসএমই) ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে তাদের প্রশিক্ষণ গ্রহীতার ৬৫ শতাংশ নারী।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণের বোঝা সহনীয় পর্যায় রেখে উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি ও তাদের দক্ষতার ভিত্তিতে ঋণ তুলে আনার ব্যবস্থা করাসহ অবস্থান টেকসই করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা ফাউন্ডশন। অন্যতম দিক ছিল নারী উদ্যোক্তার প্রসার ও টেকসই করা।

২০০৭ সালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত এসএমই ফাউন্ডেশন বলছে, বছরে ৭০জন নারী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। ২০১০ সাল থেকে এ যাবত ৫শত নারী উদ্যোক্তা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে জামানতবিহীন ঋণ গ্রহণ করেছে। ফাউন্ডেশন প্রতিবছর ২৫ শতাংশ প্রশিক্ষণ গ্রহীতার সংখ্যা বৃদ্ধি করে চলেছে এবং বর্দ্ধিত সংখ্যার মধ্যে নারী এগিয়ে আছে।

স্মার্ট লেদারের স্বত্বাধিকারী মাসুদা ইয়াসমিন উর্মি দশ বছর ধরে চমড়াজাত পণ্যের সাথে আছেন। দেশের গন্ডি পেরিয়ে তার পণ্য এখন যাচ্ছে দেশের বাইরে। উর্মি বলেন, নারী ব্যবসায়ী ব্যবসায় সফল হওয়া কঠিন, তাই অর্থ ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার অনেক কাগজপত্র জমা দেয়ার বিড়ম্বনাও আছে। এত জটিলতা মোকাবিলা করে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া নতুন নারী ব্যবসায়ীর পথে বড় বাধা বলে তিনি মনে করেন। বেশি বেশি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জানা যায়, বর্তমানে শুধু ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে নারী ব্যবসায়ির ঋণ পাওয়ার নিদের্শনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পর্যায়ক্রমে অন্য কাগজগুলো জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ বিষয় বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রোকেয়া আফজাল রহমান ইত্তেফাককে বলেন, আমি একটি ব্যাংকের ঋণ আবেদনপত্র এনে দেখেছি সেটি একটি বই। এবং অনেক জটিল বিষয়। প্রশ্ন করলে কর্তৃপক্ষ উত্তর দেন সকলে নিজেদের তথ্য দেন, বাকিটা আমরাই লিখে দেই। আমি নিজেও ক্ষুদ্রঋণ প্রক্রিয়ার সাথে আছি। আমরা নারীদের ঋণ দিয়ে দেখেছি নারী ঋণখেলাপি হয় না। অনেক অভিযোগ আমার কানেও আসে। অর্থপ্রতিষ্ঠানগুলো পুরুষ চালিত বলে পুরুষ জামানতকারী চায়। তাই মনে করি, ব্যাংকের বোর্ড সদস্যদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মত বড় পদে বেশি বেশি নারী এলে সমস্যা কমে আসবে।

অনেক সময় শোনা যায়, ব্যাংকগুলো নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে পারচ্ছে না কিংবা টাকা পড়ে থাকছে। আবার নারী উদ্যোক্তাদের অভিযোগ তারা ঋণ পাচ্ছে না। এবিষয় এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মো: মাসুদুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, নারী উদ্যক্তারা ব্যবসা করেন ট্রেড লাইসেন্স করেন না,অনেক কাগজপত্র থাকে না, আবার ব্যাংক একাউন্ট না করে নগদ টাকা লেনদেন করে, পার্টনার এগ্রিমেন্ট না থাকাও নারী উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

৫০ হাজার থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এক সংখ্যায় সুদের হার ৯ শতাংশ সুদে এসএমই লোন দেয়ার জন্য ১৫টি ব্যংকের সাথে কাজ করছি আমরা। ক্লাস্টার অর্থাত্ বেশ কিছু এলাকা জুড়ে একই পণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করা গোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ আছে এসএমই ফাউন্ডেশনের। এমন ক্লাস্টারেও নারীরা প্রবেশ করছে। যদিও এখন পর্যন্ত নারীদের কোন আলাদা ক্লাস্টার নেই। ২২টি ক্লাস্টারে ১২ টি ব্যাংক এসএমই ঋণ দিচ্ছে। দুটি ব্যাংক শুধু নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দিচ্ছে। কোন স্থানে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা সাড়ে ৮ শতাংশ সুদে পাচ্ছে। এসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনা জামানতে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নারী উদ্যোক্তাদের ঋণদানের বিধান প্রাপ্তিতে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।