রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দান উত্সব শেষ

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২:১০

মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাজারো বৌদ্ধ পুণ্যার্থীর সমবেত প্রার্থনার মধ্যদিয়ে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে দুই দিনের কঠিন চীবর দান উত্সব শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেইন ঘর উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় এই উত্সব। শুক্রবার দুপুরে গৌতম বুদ্ধ ও বনভান্তের প্রতিকৃতিতে চীবর দান ও দেশনার মাধ্যমে শেষ হয় এবারের দানোত্সবের আনুষ্ঠানিকতা। সন্ধ্যায় আকাশ প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। এ দানোত্সবে লক্ষাধিক নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে।

সকাল ছয়টায় বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় দেব-মানবের তথা সব প্রাণির হিতার্থে ধর্মদেশনা। ধর্মদেশনায় উপস্থিত ছিলেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমত্ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির। এসময় জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবিরসহ বিহারের ভিক্ষু সংঘ, চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, চাকমা রানী য়েন য়েন, উষাতন তালুকদার এমপি, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন।

চীবর তৈরির পর শুক্রবার দুপুর দুইটায় শোভাযাত্রা সহকারে কঠিন চীবর ও কল্পতরু মঞ্চে আনা হয়। পঞ্চশীল গ্রহণের পর দুপুর আড়াইটায় বনভান্তের মানব প্রতিকৃতির উদ্দেশ্যে কঠিন চীবর উত্সর্গ করা হয়। রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবিরের হাতে কঠিন চীবরটি তুলে দিয়ে ভিক্ষুসংঘকে দান করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। এ সময় হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সাধুবাদে মুখরিত হয় রাজবন বিহার এলাকা। এর আগে রাজবন বিহার এলাকায় কঠিন চীবর প্রদক্ষিণ করানো হয়। এ সময় পুণ্যার্থীরা চীবরে বিভিন্ন দানীয় সামগ্রী দান করেন। চীবর প্রদক্ষিণ শেষে ভিক্ষুসংঘের কাছ থেকে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন পুণ্যার্থীরা। পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন দেবাশীষ রায়। পঞ্চশীল প্রদান করেন ভদন্ত প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বেইন কর্মীদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্যদিয়ে বেইন ঘর উদ্বোধন করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। পরে চরকায় সুতা কেটে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রানী য়েন য়েন। রাজবন বিহারের বিশাল এলাকাজুড়ে ৮০টি চরকা ও ১৮২টি বেইন স্থাপন করা হয়। ছয় শতাধিক মহিলা এই চীবর তৈরির কাজে অংশ নেয়। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চীবর সেলাই শেষে চীবর দান করা হয়। তথাগত গৌতম বুদ্ধের সময় বিশাখা নামে এক পুণ্যবতী বুদ্ধকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তৈরি চীবর দান করেন। এ রীতি অনুসরণ করে ১৯৭৪ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে এভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। বুদ্ধ ভিক্ষুদের ৩ মাস বর্ষাব্রত শেষে প্রবারণা পূর্ণিমার দিন থেকে এ কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান শুরু হয়। মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান করা যায়। বছরে একটি বিহারে একবারই করা হয় এ দান। সে দান করতে হয় প্রবারণা পূর্ণিমা (আশ্বিনী পূর্ণিমা)- কার্তিক পূর্ণিমা দিন পর্যন্ত।