ঈদের আগে মার্কেট বন্ধ দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ২২:১১

ঈদের কেনাকাটার মূল আকর্ষণ থাকে পোশাককে ঘিরে। তাই দেশীয় ফ্যাশন হাউজ এবং অন্য ব্র্যান্ডেড হাউজগুলোতেই থাকে ক্রেতাদের আনাগোনা। তবে ঈদুল ফিতরে মেয়েদের আরেকটা বড় অংশ টেইলার্সে কাপড় বানাতে দেন। রেডিমেডের পাশাপাশি বানানো পোশাকের জন্য রমজানে কাটপিস কাপড়ের বাজারে থাকে ভিড়। এবারে সে সবের কিছুই নেই। সব শূন্য খাঁখাঁ।

ফ্যাশন হাউজগুলো এ বছর নিদারুণ ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত বছর থেকেই কার্যত তারা একেবারেই বসে রয়েছেন। গত দুই বৈশাখের ব্যবসাটা তো হলো না। যেটুকু ঈদকে ঘিরে আশা ছিল তাতেও গুড়েবালি। দেখা যাচ্ছে, ঈদের জামা কিনতে না পারার চেয়ে বিক্রি না করতে পারার কষ্টেই বেশি পুড়ছে বিক্রেতারা। গত বছর করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দেওয়া লকডাউনের প্রভাবে দুই ঈদেই বিক্রি হয়নি শপিংমলগুলোতে। এ বছর ঈদে বিক্রি করে সে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন ব্যবসায়ীরা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধের কারণে সেই স্বপ্নও বালির বাঁধের মতোই ধসে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে একেবারেই ভেঙে পড়েছেন পোশাক ব্যবসায়ীসহ শপিংমলের ব্যবসায়ীরা। ঈদের আর সময় বেশি বাকি নেই। এ অবস্থায় যদি ঘরবন্দি থাকতে হয় তাহলে তো করোনা নয়, না খেয়েই মরতে হবে বলে আক্ষেপ তাদের। গতকাল বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী ও পোশাক সরবরাহকারী কারখানার মালিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ব্যবসায়ীরা এভাবেই আহাজারি করেন। এদিকে নতুন করে সরকারের বিধিনিষেধ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোয় আরো ভেঙে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ঈদের আগে টেইলার্সগুলোতে মানুষের আনাগোনা বাড়ে। বিক্রি শুরু হয় আনস্টিচ থ্রিপিস ও গজ কাপড়ের। এখন সব টেইলার্স শপ বন্ধ। কারিগররাও ঘরে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। রেডিমেড কাপড়ের কারখানাগুলোও বন্ধ। সামনে পরিস্থিতি কী হয় কিছুই বুঝতে পারছেন না তারা। ফলে কারখানা বন্ধ করে বসে আছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরাও। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সব বন্ধই রয়েছে। তবে কিছু মার্কেটের সামনে পোশাক, জুতা, গহনার ব্যবসায়ীরা এসেছেন খোঁজ নিতে কিংবা মার্কেটের নিরাপত্তা কেমন আছে তা দেখতে।  এ সময় তাদের সঙ্গে কথা হয়।

ঢাকা কলেজের উলটো পাশের জাহান ম্যানশনের পাঞ্জাবির দোকান আব্দুল্লাহ পাঞ্জাবির কর্ণধার মোহাম্মদ আশরাফুল বললেন, ‘আমার নিজের দোকান রয়েছে। এছাড়া আমি পাঞ্জাবি সারা দেশেই সরবরাহ করি। আমি কারখানা বন্ধ করে বসে আছি। গত বছর ঈদের জন্য যে পাঞ্জাবি বানিয়েছি সে সবও এখনো বিক্রি হয়নি। গতবার বাড়িতে জমি বিক্রি করে কাপড়ের দাম আর কারিগরের খরচ দিয়েছি। এবার সেটাও করতে পারছি না। আশা ছিল, এবার ঈদে ব্যবসা করে ধারদেনা শোধ করব। কীভাবে যে কী করব কিছুই বুদ্ধিতে কুলাচ্ছে না।’

এদিকে মেট্রো শপিংমলের আঁখি টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. দুলাল হোসেন বললেন, অন্যান্য বছর রোজা শুরু হলে আর সালোয়ার কামিজের অর্ডার নিতে পারি না। গত বছরও ব্যবসা হয়নি, এবছরও হচ্ছে না। আশা ছিল এ বছর কাজ করে সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেব। সেটাও হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে সাদাকালো ফ্যাশন হাউজের স্বত্বাধিকারী আজহারুল হক আজাদ বলেন, যে তাঁতিরা সারা বছর ঈদকে সামনে রেখে শাড়ি বুনল সেই শাড়ি এখন কীভাবে বিক্রি হবে? বিদেশিদের চাহিদা মেটাতে ঠিক রাখতে সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে। হাজার হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাই কি কেবল না খেয়ে, ব্যবসা ধ্বংস করে পথে বসবে—প্রশ্ন  রাখেন তিনি।