গত ৪ বছর ধরে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ৮টি ছাত্রাবাস বন্ধ রয়েছে। ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঐতিহ্যবাহী দু’টি কলেজের ছাত্রাবাস বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে দূর-দুরান্তের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা। এছাড়া ছাত্র সংগঠন দু’টির আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের কারণে চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্য কলেজের ছাত্রাবাসও ২০/২৫ বছর ধরে বন্ধ।
সরকারি কলেজে আবাসন সংকটে নগরীতে বাণিজ্যিক ভাবে অসংখ্য ছাত্রী হোস্টেল খোলা হয়েছে। এসব হোস্টেলে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে ক্ষেত্রভেদে ৬/৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অথচ সরকারি কলেজের হোস্টেলে খরচ মাত্র ১২শ’ টাকা। ছাত্ররা নানা উপায়ে থাকার ব্যবস্থা করলেও চট্টগ্রামে যে ছাত্রীদের কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই তাদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম প্রিয় প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ। ১৯৮০ সাল থেকে এই কলেজে ছাত্রশিবির একক আধিপত্য ছিল। ২০১৫ সালে ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম কলেজকে ছাত্রশিবিরের আধিপত্য মুক্ত করে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। পরে ছাত্রলীগের দাবির মুখে কলেজ কর্তৃপক্ষ ৬টি ছাত্রাবাস বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে ৪টি ছাত্রদের ও ২টি ছাত্রীদের। এসব হোস্টেলে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা ছিল। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোনো কাজ না থাকলেও হোস্টেলের কর্মচারীরা বেতন ভাতা ভোগ করে যাচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, হোস্টেল বন্ধ থাকায় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমি বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর কাছে হোস্টেলগুলো দ্রুত খুলে দেয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছি। এগুলো চালু হলে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত কম খরচে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পেত।
পাশাপাশি অবস্থিত সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের দু’টি ছাত্রাবাসও শিবির-ছাত্রলীগ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ৪ বছর বন্ধ। এর মধ্যে একটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর জুবেদা মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, হোস্টেল বন্ধ থাকায় গ্রামের শিক্ষার্থীরা বেশি সমস্যায় পড়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে হোস্টেলগুলো দ্রুত খুলে দেয়া প্রয়োজন।’ অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে নারীদের উচ্চ শিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, দু’টি ছাত্রী হোস্টেল রয়েছে যেখানে ২৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে পারে। পর্যাপ্ত আসন না থাকায় ছাত্রীদের সিঙ্গেল সিটে ২ জন করে থাকতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কলেজ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে মাতৃস্নেহ নিবাস নামে একটি বাণিজ্যিক হোস্টেল। এটির পরিচালক নাজিম উদ্দিন জানান, এখানে এক সিটের জন্য মাসে থাকা খাওয়া বাবদ সাড়ে ৪ হাজার টাকা নেয়া হয়। আর ডাবল সিটের ভাড়া ৪ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম ছাত্রী নিবাস নামে অপর হোস্টেলে একজন ছাত্রী থাকা-খাওয়া বাবদ মাসে ৫ হাজার নেয়া। আর ভর্তির সময় দিতে হয় ২১০০ টাকা।
