যশোরে যুবলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ, শহরে আতঙ্ক

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৫

যশোর অফিস

শনিবার সিরিজ বোমা হামলার পর সোমবার ভোরে সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১৩ মামলার আসামি মেহেবুব রহমান ম্যানসেল (৩২) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বামপায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩টি বিদেশি পিস্তল, ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। ম্যানসেল যশোর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি কাজী নাবিল আহমেদ গ্রুপের সাথে রাজনীতি করেন। গত দুদিনের ঘটনার পর শহরে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সোমবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রাত পৌনে ৩টায় ষষ্ঠীতলাপাড়ার ইমাম হাসান লালের (৬০) বসতবাড়ির ছাদে দুই গ্রুপ সন্ত্রাসী তাদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি করছে। এ সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল হতে ম্যানসেলকে (৩২) বামপায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এবং তার অপর সহযোগী মোঃ মেহেদী হাসান অনিককে (২৩) গ্রেফতার করে। পুলিশ তাদের দেহতল্লাশি করে ম্যানসেলের দখল হতে ২টি বিদেশি পিস্তল ও ৮ রাউন্ড গুলি এবং মোঃ মেহেদী হাসান অনিকের দখল হতে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি জব্দ করে। গুলিবিদ্ধ ম্যানসেলকে তাত্ক্ষণিকভাবে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরবর্তীতে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এসআই মোঃ শাহিদুল আলম বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছেন।আহতের বাবা মোহাম্মদ আলমাস সাংবাদিকদের বলেন, রাত   আড়াইটার দিকে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। এরপর তারা ম্যানসেলকে তুলে বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। পরে গুলির শব্দ শুনি। বাড়ির দরজা পেছন থেকে আটকে দেয়ায় আমরা কেউ ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। পরে হাসপাতালে গিয়ে দেখি ছেলের বামপায়ে গুলির জখম।

যশোর শহর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমাম লাল সাংবাদিকদের বলেন, গভীর রাতে ষষ্ঠীতলাপাড়ার কয়েকটি বাড়ির সামনে অনেক পুলিশ অবস্থান নেয়। তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। বাড়ির লোকজনকে বিশ্রি ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। কিছুসময় পর গুলির শব্দ শুনতে পাই। জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুদ্দিন মিঠু বলেন, কিছুদিন আগে ম্যানসেলের স্ট্রোক হয়। তার শরীরের ডানপাশ প্রায় অবশ। তিনি বাড়িতেই বেশিরভাগ সময় থাকতেন।

এ দিকে রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ম্যানসেল যশোরে বিবদমান আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের মধ্যে এমপি গ্রুপের সমর্থক।

বোমাবাজির পর রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের মধ্যেই ষষ্ঠীতলাপাড়া এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এমপি গ্রুপের সমর্থক ম্যানসেলকে উদ্ধার করে পুলিশ। আওয়ামী লীগের অপর গ্রুপের পৌর কাউন্সিলর হাজী সুমন, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ, যুবলীগ নেতা মামুন ও কুদরতের বাড়িতেও পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় কোনো কোনো বাড়িতে দুর্ব্যবহার ও ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।