তাইজুল ইসলাম তাজু, জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতা
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে ওরা (নারী কৃষি শ্রমিক)। দুপুরে কখনো খায় কখনো আবার না খেয়ে কাজ করে যায়। সারা দিন রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করে এখানকার নারী শ্রমিকরা। পুরুষদের পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রে সমান বিচরণ তাদের। কিন্তু মজুরি বৈষম্য তাদের হতাশ করে। সারা দিন খেতে কাজ করলেও তারা পায় দিন শেষে ১২০ টাকা। যা পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় কয়েক গুণ কম। সম্প্রতি শেষ বিকালে উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের চিড়াভিজা গোলনা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আলু খেতে ৬২ জনের নারী শ্রমিকের বিশাল বহর নিয়ে একদল নারী শ্রমিক আলু তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ দৃশ্য ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের শোনান তাদের কষ্টের কথা।
কথা হয় ফজিলা বেগম, কুলসুম, বুলো বালা, খাদিজা বেগম, শরিফন নেছা, মেহেরজান, কবিতা রানী, মিনতি বালাসহ আরো কয়েক জনের সঙ্গে। তারা বলেন, ‘বিভিন্ন সময় ধান, পাট, তামাক, ভুট্টা এবং আলু তোলার কাজ করি আমরা। কিন্তু আমরা আমাদের ন্যায্য মজুরি কখনোই পাই না।’ তারা আরো বলেন, ‘অভাবের তাড়নায় স্বামীর সংসারে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন মৌসুমে আমাদের মাঠে কাজ করতে হয়। জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, আমাদের মজুরি তেমন বাড়ছে না। আলু খেতে সকাল থেকে সারা দিন কাজ করে আমরা পাই মাত্র ১২০ টাকা অথচ একই কাজ আমাদের সঙ্গে যে পুরুষরা করেন তারা পাচ্ছেন ৩০০ টাকা। আমরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত।’ আলু খেতের চুক্তিভিত্তিক চাষি দুলাল, আলাকুল ও জয়মামুনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘নারীদের তুলনায় পুরুষরা কাজ বেশি করে। যার জন্য পুরুষের মজুরি একটু বেশি দেই।’
স্থানীয় পিজিরুল আলম দুলাল জানান, এ অঞ্চলে নারীরা পিছিয়ে পড়েছে। মাঠে-ঘাটে কাজ করে যারা তাদের মজুরি বৈষম্য রয়েছে এটা সত্যি। তিনি আরো জানান, এ বৈষম্য থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার। কারণ, পুরুষের পাশাপাশি সব ক্ষেত্রেই নারীরা পারদর্শী।
উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও নারী নেত্রী আফরোজা রোজি বলেন, ‘এ চিত্র শুধু জলঢাকায় নয় পুরো দেশের চিত্র। মাঠ পর্যায়ে অসহায় দরিদ্র নারীরা যারা মাঠে-ঘাটে কাজ করেন, তাদের মজুরিটা কখনোই সঠিকভাবে দেওয়া হয় না। এ ব্যবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার।’
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব হাসান বলেন, ‘নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে তাদের কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হবে। কোনোভাবেই তারা যেন প্রকৃত প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য সামাজিকভাবে সচেতন থাকতে হবে।’
