রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীদের মাঝে পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। গত ১০ দিন ধরে পানির পাম্প নষ্ট থাকায় এ পানির সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা যায়।
জানা যায়, গত তিন মাস ধরেই হাসপাতালের পাম্পটিতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হচ্ছে। বেশ কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
পানি না থাকায় হাসপাতাল ঠিকমত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নও রাখা যাচ্ছে না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অতিরিক্ত দুর্গন্ধের কারণে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করাই দায়। রোগীদের ওয়ার্ডে প্রবেশ করে দেখা যায় চারদিক নোংরা ও দুর্গন্ধময় হয়ে আছে। এখানে রোগীদের সাথে সাথে তাদের আত্মীয়-স্বজনরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালের সবগুলো টয়লেটের অবস্থাই করুণ।
রোগীরা অভিযোগ করে বলেন, পানি না থাকায় হাসপাতালে থাকা রোগীরা প্রাকৃতিক কাজ সারতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের হাসপাতালের বাইরে গিয়ে এবং কখনো নদী থেকে অথবা আশেপাশের লোকজনের বাড়ি থেকে পানি নিয়ে এসে প্রয়োজন মেটাতে হয়। তবে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছেন হাসপাতালে ভর্তি থাকা বৃদ্ধ রোগী ও প্রসূতি মায়েরা। তাদের পক্ষে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে প্রাকৃতিক কাজ সারা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে বেশিরভাগ রোগীই হাসপাতাল বিমুখ হয়ে পড়ছেন। প্রসূতি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় দুই থেকে তিনজন রোগী বাদে পুরো ওয়ার্ডই খালি।
মধুখালী এলাকা থেকে আসা শহিদুল ইসলাম জানান, ১০ দিন আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি পানি পাচ্ছেন না। পানি না থাকায় চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাকে। খাওয়ার পানিও তাকে দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে।
ভিংরাবো এলাকা থেকে আসা বৃদ্ধা রাইজা বেগম (৭০) বলেন, হাসপাতালে পানি না থাকায় খুবই সমস্যায় আছি। আমি বৃদ্ধ মানুষ ঠিক মতো হাঁটতেও পারি না। প্রাকৃতিক কাজ সারতে নিচে যেতে অনেক সমস্যা হয়।
জাঙ্গীর এলাকা থেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী জানান, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ সরকারি ওষুধও তারা ঠিকমত পান না। তিনি দুঃখ করে বলেন, সামর্থ্য না থাকায় সরকারি হাসপাতালে সেবার জন্য আসি কিন্তু সঠিক সেবা বা ওষুধ না পেলে আমরা কোথায় যাবো।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাঈদ আলম মামুন বলেন, পানির পাম্পটি মেরামত করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর থেকে লোকজন এসেছে। শীঘ্রই পাম্পটি মেরামত করা হবে। পাম্প নষ্ট থাকায় পানির অভাবে হাসপাতালের টয়লেট ও ওয়ার্ড পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। পাম্প ঠিক হয়ে গেলে এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
