করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন ভারতের কংগ্রেস পার্টির সাবেক সভাপতি ও এমপি রাহুল গান্ধী। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা টুইটারে নিজেই জানিয়েছেন রাহুল। গতকাল মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় তিনি জানান, গত কয়েক দিন ধরেই সামান্য উপসর্গ ছিল। পরীক্ষায় সংক্রমণ ধরা পড়েছে। গত কয়েক দিনে যারা তার সংস্পর্শে এসেছেন, তারা যেন সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন, সে জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।
গত ১৪ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরে নির্বাচনি প্রচারণায় যোগ দেন রাহুল। সেই জনসভার পরই ভারত জুড়ে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আবহে তার পরবর্তী সব নির্বাচনি সভা বাতিল করেন রাহুল গান্ধী। করোনা পজিটিভ আসার পর ডাক্তারের পরামর্শে বাড়িতেই আইসোলেশনে রয়েছেন রাহুল গান্ধী। তার সুস্বাস্থ্য ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মাত্র এক দিন আগেই ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
এদিকে ভারতে করোনায় এক দিনে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৬১ জনের। এটিই এখন পর্যন্ত দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। করোনায় এ পর্যন্ত ভারতে মারা গেছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৩০ জন। গতকালও দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ১৭০ জন। এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দেশটিতে দৈনিক ২ লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১ কোটি ৫৩ লাখ ২১ হাজার ৮৯ জন শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের দিক থেকে বিশ্বের মধ্যে ভারতের অবস্থান বর্তমানে দ্বিতীয়।
গতকাল মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে করোনার দ্বিতীয় প্রবাহে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশে। আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রথম প্রবাহের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রবাহের পার্থক্য কী রকম, সে সম্পর্কে জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব। ভার্গব জানিয়েছেন, দ্বিতীয় প্রবাহে যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, তাদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। যদিও প্রথম প্রবাহের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রবাহের মৃত্যুহারে বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ ন্যাশনাল ক্লিনিক্যাল রেজিস্ট্রি থেকে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে আইসিএমআর। তাতে দেখা গেছে, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কম। প্রথম প্রবাহের সময় এই বয়সসীমার মধ্যে ২৫ দশমকি ৫ শতাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এবার সেটা ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ। দ্বিতীয় তরঙ্গের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ৭০ শতাংশ ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সি। এদিকে আলজাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, যে হারে সত্কার হচ্ছে, তাতে ভারতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। কয়েকটি শহরে করোনায় মৃত্যুর যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি মরদেহ প্রতিদিন কোভিড প্রটোকল মেনে দাহ করা হচ্ছে।
