দুই বছর আগেও ১০ লাখ দর্শনার্থী এসেছিল। কিন্তু এ বছর নেই ১০ জনও। গাড়ি কিংবা কোনো পরিবহনই চলছে না কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে। তাই অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে এবারের লাঙ্গলবন্দ স্নানোত্সব তীর্থস্থান। তবে স্থানীয় ১০-১২ জন এ উত্সবটি পালন করেন। মহাভারতের বর্ণনা মতে, পরশুরাম মুনি পাপমুক্তির জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের যে স্থানের জলে স্নান করেছিলেন, তা নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ নামক স্থান। সেই থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ব্রহ্মপুত্র নদের ঐ স্থানে স্নান খুবই পুণ্যের। এ স্নানের ফলে ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে পাপমোচন হয়। এ বিশ্বাস নিয়ে সুদীর্ঘকাল ধরে প্রতিবছর বাংলাদেশ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল থেকে প্রায় ১০ লাখ দর্শনার্থী এ উত্সবে অংশ নিত। লগ্ন অনুযায়ী, ১৯ ও ২০ এপ্রিল বন্দরের লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নানোত্সব হওয়ার কথা ছিল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে লাঙ্গলবন্দের দুই দিনব্যাপী স্নানোত্সব বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তাই প্রবেশপথে দুই দিন ধরেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। একটি রিকশা বা সাধারণ পরিবহনও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আশপাশের এলাকার কিছু মানুষ জলে স্নান কর?লেও ?বিরান শূন্য ফাঁকা পড়ে আছে লাঙ্গলবন্দ। স্থানীয়রা জানান, পুরোনো রীতি বজায় রাখতে তারা স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উত্সবটি পালন করেন। বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুক্লা সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সভা, সমাবেশ, ওয়াজ মাহফিল, তীর্থযাত্রাসহ সব রকম জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ কারণে লাঙ্গলবন্দ স্নানোত্সব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
