গাজীপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মারধরে আহত এক ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক চালকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিন মাস মৃত্যুর সাথে লড়াই করে গত শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জহুরা খাতুন বাদি হয়ে রবিবার সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দুই সন্তানের জনক নিহত সাইদুল ইসলাম (৩০) গাইবান্ধার ফুলছরি থানার মধ্যেউড়িয়া গ্রামের আবদুস ছাত্তারের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর ৩০ নং ওয়ার্ডের বাঙ্গালগাছ এলাকার আজিজ খানের বাড়িতে ভাড়া থেকে ভাড়ায় ইজিবাইক চালাতেন। তার দুই সন্তানের মধ্যে বড় জসিম উদ্দিন (১৪) অষ্টম ও মেয়ে শান্তা (১২) তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।
নিহতের বাবা আবদুস সাত্তার বলেন, ৩০ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আদিল হোসেনের ইজিবাইক ভাড়ায় চালাত সাইদুল। গত বছরের ১৯ অক্টোবর রাত একটার দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বড় ভাই আলমগীর হোসেনের কাছে ইজিবাইক জমা দিয়ে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল। পরদিন ভোর ৪টার দিকে আদিল হোসেন চোর সন্দেহে সাইদুলকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বালুচাকুলির নিজ বাড়িতে নিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে রড দিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এক পর্যায়ে প্লাস দিয়ে নখ তুলে ফেলে এবং ক্ষতস্থানে লবণ ও মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে দুপুরে তিনি এবং ভাড়া বাড়ির মালিক আজিজ খানের ছেলে মইজদ্দিন খান উদ্ধার করে তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলে ভর্তি করে। চিকিত্সার খরচ যোগাতে না পারায় বেশ কিছুদিন আগে ছেলেকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসেন। বিনা চিকিত্সায় ধুঁকে ও এবং মৃত্যুর সাথে লড়াই করে শনিবার সন্ধ্যায় মারা যায় সাইফুল।
স্ত্রী জহুরা খাতুন জানান, ঘটনার পর আদিল হোসেনের ভয়ে থানায় না গিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেনের কাছে সালিশ বোর্ডে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তিনি বিচার ডাকলেও আদিল উপস্থিত হননি। এ বিষয়ে কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন বলেন, আদিল হোসেনকে তিনবার নোটিশ করার পরও সে হাজির হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আদিল হোসেন বলেন, আমি সাইদুলকে হালকা-পাতলা মেরেছি। আমার পিটুনিতে সে মারা গেছে কি না তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে। সদর থানার ওসি সমীর চন্দ সূত্রধর বলেন, ঘটনাটি যথাযথ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
