করোনা প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সড়কে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাগুলো গত দুই দিনের মধ্যে ঘটেছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে হাইকোর্টের মাজার গেটে প্রবেশে মুখে একজন আইনজীবীর সঙ্গে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর পুরান ঢাকার আদালত চত্বরের সামনে বাহাদুর শাহ পার্কের পাশে প্রধান সড়কে একজন নারী আইনজীবীর সঙ্গে। তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে গুলিস্তানে।
হাইকোর্টের মাজার গেটে আইনজীবী ফয়েজ উল্লাহ প্রবেশ করার সময় পুলিশ তার কাছ থেকে পরিচয় পত্র দেখতে চান। ওই আইনজীবী বলেন, আপনি আমাকে চিনেন না। আজকে থেকে আপনি কি ডিউটি শুরু করছেন? পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আপনি কে? প্রত্যত্তরে বলেন, আমি আইনজীবী। আমার ড্রেস পরা আছে না। পুলিশ বলে, কার্ডটা দেখান। তখন আইনজীবী বলেন, ড্রেস পরা আছে না। ড্রেস থাকলে কার্ড দেখাব কেন? আমি কার্ড দেখাব না। তখন ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, কার্ড না দেখালে আপনি যেতে পারবেন না। তখন অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা ওই আইনজীবীকে ধাক্কা দিয়ে প্রিজন ভ্যানে তুলে ফেলে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে পুরান ঢাকার আদালত চত্বরে প্রবেশ গেটের সামনের রাস্তায়। একজন বয়স্ক নারী আইনজীবী গলায় কার্ড ঝুলিয়ে আদালত চত্বরে প্রবেশ করতে চাইলে সহকারী কমিশনার (এএসপি) পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কে? তখন ওই নারী নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে গলা থেকে তার পরিচয়পত্রের কার্ড তুলে বলেন, আপনি দেখতে পারছেন না যে আমার কার্ড রয়েছে। তখন ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আপনি মুখ দিয়ে বলেন কার্ডে কি লেখা রয়েছে। তখন ওই নারী আইনজীবী বলেন, আপনি পড়তে পারেন না? আপনি দেখছেন না আমার গলায় কার্ড ঝুলানো আছে। তখনও ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমি বুঝব কিভাবে? আপনার কার্ডটা কি আপনি বলেন। তখন নারী আইনজীবী বলেন, আপনি বুঝতে পারছেন না যে আমি সারা রাস্তায় কত কষ্ট করে এখানে এসেছি। আমি অসুস্থ। আমার গা মাথা হাত পা কাঁপছে। পুলিশ তখন বলে, আপনি চিল্লাচ্ছেন কেন? নারী আইনজীবী বলেন, আপনি বুঝেন না। কত কষ্ট করে এসেছি। আপনি দাঁড়ায় আছেন বলে বুঝতে পারছেন না।
তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে গুলিস্তানে একজন সাধারণ মোটরবাইক চালকের সঙ্গে। ঘটনার সূত্রপাতের বর্ণনা দিয়ে ওই মোটরবাইক চালক বলেন, গুলিস্তানে ফ্লাইওভারের নিচে ফুট ওভারব্রিজের পাশে সার্জেন্ট অন্যায়ভাবে তাকে রাস্তা থেকে আটক করে কাগজ দেখার নাম করে ২ হাজার টাকার জরিমানার মামলা ঠুকে দেন। মোটরবাইক চালক সার্জেন্টকে বলেছিলেন, ‘স্যার আমার তো কোন দোষ ছিল না। আমি তো বাসের ডান সাইডে ছিলাম। একটা রাস্তার মাঝখানে ছিলাম। আমি ভুল সাইডে ছিলাম না। এত বাস ফিটনেসবিহীন চলছে। সেটার দিকে তো আপনি নজর দিচ্ছেন না। আপনি তো পাগল হয়ে গেছেন।’ এবার সার্জেন্ট তাকে বলেন, ‘তুই কাকে পাগল বলছিস? তোকে মজা দেখাচ্ছি।’ বলেই মামলা ঠুকে দেন। এরপর ওই যুবক ২ হাজার টাকা জরিমানার মামলা খালাস করতে গিয়ে আরো ১ শ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। সার্জেন্টকে এ ব্যাপারে ওই মোটরবাইক চালক বলেন, স্যার এটা অন্যায় করলেন। আমি ভুল কিছুই করিনি।’
