করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে দিশেহারা ভারত। প্রতিদিন সেখানে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে বেড ও অক্সিজেনসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেখা দিয়েছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও টিকার ঘাটতি। যে হারে টিকার উত্পাদন করা দরকার তারা তা করতে পারছে না। কেন এই বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়তে হয়েছে ভারতকে তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে বিবিসি।
তথ্যউপাত্ত তুলে ধরে বিবিসি বলছে, বেশকিছু রাজ্যে কোভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ অনেক বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হয়ে দেখা দিয়েছে। যদিও ভারতে এখনো পর্যন্ত এই মহামারিতে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম। তবে সংক্রমণের হার অনেক বেড়ে যাওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নাজুক অবস্থায় পৌঁছে গেছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরুতে এ বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সেদেশে করোনা সংক্রমিত হিসেবে ১১ হাজার জনকে চিহ্নিত করা হয় আর পরের ৫০ দিনে, দৈনিক সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল গড়ে ২২ হাজার। কিন্তু তার পরের ১০ দিনে হঠাত্ এক লাফে তা বেড়ে গড়ে দৈনিক সংক্রমণ পৌঁছায় ৮৯ হাজার ৮০০ জনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাত্ এই উল্লম্ফন থেকে বোঝা যাচ্ছে দেশ জুড়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ অনেক বেশি দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। কেরালা রাজ্যের কোভিড-১৯ টাস্ক ফোর্সের সদস্য ড. এ ফাতাহউদ্দিন বলেন, সংক্রমণের সংখ্যা এভাবে বাড়ার ঘটনাটি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের দৈনিক ৯০ হাজার গড় সংক্রমণ থেকে জানুয়ারিতে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা যখন ২০ হাজারের নিচে নেমেছিল তখন ভারত সরকার তাদের সুরক্ষাবিধি অনেকটাই তুলে দেয়। ধর্মীয় সমাবেশ, জনসমাগমস্থল খুলে দেওয়া ও জনাকীর্ণ নির্বাচনি সমাবেশ আয়োজন এই উল্লম্ফনের জন্য অনেকটাই দায়ী বলে জানান তিনি। ড. ফাতাহউদ্দিন বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে সতর্ক হওয়ার জন্য ইঙ্গিত ছিল, কিন্তু আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের কাজটি করতে পারিনি।’
গত ২৫ মার্চ ভারতের গবেষকরা ঘোষণা করেন যে, তারা করোনা ভাইরাসের একটি ‘ডাবল মিউট্যান্ট’ ধরন চিহ্নিত করেছেন। বিভিন্ন রাজ্য থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা করে এই রূপের খোঁজ পেয়েছেন তারা। ভাইরোলজিস্ট শহিদ জামিল ব্যাখ্যা করেন, ‘ভাইরাসের প্রোটিন কাঠামোতে দ্বিগুণ মিউটেশন ভাইরাসটির সংক্রমণের সক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয় এবং এটা মানবদেহের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে পারে।’ তিনি বলেন, সংক্রমণের হারে হঠাত্ উল্লম্ফনের পেছনে ভাইরাসের ধরনের এই পরিবর্তনই একমাত্র ‘যৌক্তিক ব্যাখ্যা’।
