দেশে করোনা ভাইরাসে এক দিনে আরো ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৫৮ জন ঢাকা বিভাগের, ১৭ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, আট জন রাজশাহী বিভাগের, তিন জন খুলনা বিভাগের, দুই জন বরিশাল বিভাগের, তিন জন সিলেট বিভাগের, দুই জন রংপুর বিভাগের এবং এক জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। দেশে এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ১০ হাজার ৬৮৩ জন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ২৮০ জন। এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৩২ হাজার ৬০ জনে দাঁড়াল। চার দিন পর মঙ্গলবার দেশে করোনা ভাইরাসে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ১০০-এর নিচে নেমে আসে। এর আগে শুক্র ও শনিবার ১০১ জন করে, রবিবার ১০২ জন এবং সোমবার ১১২ জনের মৃত্যু হয়। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দিনে ৬ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় সেরে উঠেছেন ৭ হাজার ৭২ জন। তাদের নিয়ে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৩৩৫টি ল্যাবে ২৮ হাজার ৪০৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৫২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৮৩টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ০৭ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৮ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৫টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৩৮টি। গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ আর নারী ৩৬ জন। তাদের ৬০ জন সরকারি হাসপাতালে ৩১ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং চার জন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৫৭ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ২২ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, ১৩ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর এবং তিন জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১০ হাজার ৬৮৩ জনের মধ্যে ৭ হাজার ৮৮৬ জনই পুরুষ এবং ২ হাজার ৭৯৭ জন নারী।
দেশে করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৭ লাখ ৬১ হাজার ৯০২ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১৮ লাখ ১৫ হাজার ৯৮৭ জন। অর্থাত্ দুই ডোজ মিলিয়ে ৭৫ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮৯ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয়ভাবে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলে।
